শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একের পর এক শিশুর প্রতি অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এবার উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের দুর্গানগর এলাকায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কামাল মিয়া পিতা মৃত আব্দুর রব, নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এর কিছুদিন আগে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নেও অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। উপজেলায় বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় তিন দিন আগে সিন্দুরখান ইউনিয়নের দুর্গানগর এলাকায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কামাল (ফেসবুক আইডিতে কামাল ভাই চাইপিং) নামের ওই ব্যক্তির মাধ্যমে শ্লীলতাহানির শিকার হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই শিশুর জবানবন্দির দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটিতে শিশুর মুখমণ্ডল প্রকাশ্য অবস্থায় এবং অন্যটিতে স্টিকার দিয়ে মুখ ঢাকা অবস্থায় তাকে ঘটনার বিবরণ দিতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিলেও, পাশ থেকে অন্য এক ব্যক্তিকে তাকে ঘটনার বিবরণ শিখিয়ে দিতে (ডিক্টেশন দিতে) শোনা গেছে। ফলে ঘটনাটির সত্যতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, কিছুদিন আগে কালাপুরে এমন ঘটনা গড়ার পর এবার সিন্দুরখানেও একই অভিযোগ আসায় বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে, একটি প্রভাবশালী পক্ষ পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের (মেম্বার) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সামগ্রিক ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “লিখিতভাবে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা মৌখিকভাবে সংবাদ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ের অফিসাররা কাজ করছেন। প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হলে আমরা আপনাদেরকে বিস্তারিত জানাতে পারব।”
আইনি সতর্কতা ও সামাজিক উদ্বেগ: জনস্বার্থে –
এদিকে আইনজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, দেশের প্রচলিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ এবং ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ অনুযায়ী অপরাধের শিকার কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর পরিচয় বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরণের ভিডিও শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। একই সাথে দুর্গানগরের ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন এলাকাবাসী।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
