শিশুকে কোলে নিয়ে মায়ের আকুতি, উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়; আটক ১, মামলা দায়ের
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে দুইটি বসতঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনমনে উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
চুরির অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কুর্শি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত প্রাণী চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ জমছিল। এ পরিস্থিতিতে চুরি প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব উদ্যোগের পরও চুরি বন্ধ হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর কুর্শি গ্রামের দোলন মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির সময় এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তিনি আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান বলে স্থানীয়দের দাবি।
বৈঠকের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত
পরদিন সকালে মোহাম্মদগঞ্জ বাজারে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে কিছু সংখ্যক উত্তেজিত ব্যক্তি দক্ষিণ কুর্শি এলাকায় গিয়ে দুইটি বসতঘরে ভাঙচুর চালায় বলে জানা যায়। এ সময় কিছু দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মানবিক দৃশ্য আলোচনায়
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী তার শিশুকে কোলে নিয়ে ঘর রক্ষার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তাকে ও শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ঘর দুটির ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
আয়োজকদের বক্তব্য
বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, সেখানে কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তারা দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি আবেগপ্রবণ হয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, “ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত হয়নি।”
পুলিশের পদক্ষেপ
পুলিশ জানায়, আটক যুবককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
পরিশেষে এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে—দীর্ঘদিনের অপরাধ প্রবণতা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করলেও, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন কার্যকর তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
