আগুনকে এসিডের নামে চার্জশিটঃপুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    0
    238

    আমারসিলেট24ডটকম,১০জুনঃ সুনামগঞ্জে দৈনিক মানবকন্ঠ ও মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়াকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে পুলিশ। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে দেয়া পৃথক ৩টি ডাক্তারী সার্টিফিকেটকে উপেক্ষা করে আগুনের ঘটনাকে এসিডে রুপান্তরিত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে মিথ্যা মামলা দায়ের অসৎ তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে,তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১০টি জুয়ারবোর্ড বসিয়ে প্রতিরাতে ৫০হাজার টাকা পুলিশের নামে চাঁদা উত্তোলনসহ তার নিয়োজিত দুই দালাল কর্তৃক চাঁদাবাজি,চোরাচালান,হেরুইন,মদ-গাজা পাচার করাসহ তাদের দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জের সাংবাদিক মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করান তাহিরপুর থানার এসআই জামাল উদ্দিন। তিনি অতি উৎসাহি হয়ে নিজে মামলাটি রেকর্ড করে,তদন্তের দায়িত্বও নিজেই নেন।

    এবিয়য়টি জানতে পেরে মিথ্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন থানাকে লিখিত আদেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশকে বৃদ্বাঙ্গুলী দেখিয়েছেন ওই প্রভাবশালী এসআই। এবং তদন্তের নামে প্রকৃত সত্য ঘটনাটি আড়াল করে সাংবাদিক মোজাম্মেলকে জড়িয়ে অবশেষে আদালতে চার্জসীটও প্রদান করেন। জানা যায়,গত ২৯মার্চ শনিবার রাত ৮টায় উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের শিক্ষিকা শামসুন নাহারের বাসার সামনে সহপাঠিদের সাথে খেলার সময় শিশু শিহাব তার খেলনা পিস্তলের গ্যাস ম্যাচের আগুনে দগ্ধ হয়। কিন্তু এঘটনাটি বিভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে এসআই জামাল তার দালাল কামড়াবন্দ গ্রামের শিশু সিহাবের বাবা আজাদকে বাদী করে সাংবাদিক মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করান। অথচ সিলেট ওসমানী মেডিকেল থেকে ২টি ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেয়া ১টিসহ মোট ৩টি ডাক্তারী সার্টিফিকেটে থেকে জানাযায়,শিশু শিহাব বার্ণ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। যদি এসিড হতো তাহলে ওই শিশুটি এতদিন অসুস্থ্য থাকতো। এমনকি তার শরীরের যে স্থানে জখম হয়েছে সেখানে ক্ষত সৃস্টি হতো। অথচ শিশু শিহাব আক্রান্ত হওয়ার ১০দিনের ভিতরেই পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে যায়। ডাক্তারী সার্টিফিকেট ও ঘটনাস্থলের স্বাক্ষি প্রমানে সত্য ঘটনা বেড়িয়ে আসায় অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে বাদীর আপন ছোট ভাই,তার তালত ভাই ও মামাকে স্বাক্ষি বানিয়ে আদালতে মিথ্যা এসিডের চার্জসিট দেয়। এব্যাপারে এসআই জামাল বলেন,পত্রিকায় লেখলে কি হবে,আমি ১২লক্ষ টাকা দিয়ে এখানে এসেছি। এসপি-ডিসি আমাকে কিছু করতে পারবেনা।

    প্রসঙ্গত,সীমান্তের চোরাচলান ও চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশে এসআই জামাল ও আজাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে মর্মে ২০১৩সালের ৫ই মে সাংবাদিক মোজাম্মেলের কাছে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আজাদ ও তার সহোদর সাজ্জাদ। চাঁদা না দিয়ে পরদিন সাংবাদিক মোজাম্মেল সংবাদ সংগ্রহের কাজে বড়ছড়ায় গেলে আজাদ ও সাজ্জাদ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মোজাম্মেলের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা,স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করতে গেলে এসআই জামাল মামলা নিয়ে ওসিকে বাঁধা দেয়ায় বিপাকে পড়ে নির্যাতিত সাংবাদিক মোজাম্মেল। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে আজাদ গংদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। ইতিপূর্বে আজাদ গংদের সন্ত্রাসী,চোরাচালানী,চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে দালালির বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিক রাজু আহমেদ রমজানকে মারধর করে আজাদ গং। এঘটনায় সাংবাদিক রাজু থানায় জিডি দিলে উল্টো তার বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি,চুরি,ছিনতাইর অভিযোগ দিয়ে মিথ্যা মামলা দেয় আজাদ গং, পরে বিজ্ঞ আদালত জিআর ৫৪/১১ মামলাটি খারিজ করে দেন বলে জানা গেছে।