আজীবন বহিষ্কৃত মেয়রের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের রুল

0
540
আজীবন বহিষ্কৃত মেয়রের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের রুল

আমার সিলেট ডেস্কঃ  জমিজমা সংক্রান্ত এক মামলায় মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্টে।

একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে আবেদন নিয়ে বুধবার ২৪ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মামুনুর রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারি করে এ আদেশ দেন।

২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর ও ২০২১ সালের ২১ জুন দেওয়া আদেশ প্রতিপালন না করায় মেয়র জাহাঙ্গীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়। রুলে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ছাড়া বাকি বিবাদীরা হলেন,আলফাজ, হারুনুর রশিদ ও ফজলুল হক।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টে আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গাজীপুরের সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দখলে থাকা ব্যক্তি ২০১৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। তখন হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা দিলে আবেদনকারীরা আগের মতো ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীর ও তার লোকজন ওই জমি নিজের দাবি করে ব্যবহারে বাধা দেন। তাই জাহাঙ্গীর আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ।

এরপর আদালত অবমাননার অভিযোগে মেয়র জাহাঙ্গীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন আদালত। সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির এক বৈঠক শেষে তাকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কেন তাকে দল থেকে আজীবনের বহিষ্কার করা হলো ? দলীয় সূত্র বলছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীর আলাম। 

এ ঘটনার পরপর গাজীপুর মেয়রের শাস্তির দাবিতে মশাল মিছিল বের হয়। রাজনীতির অঙ্গনে শুরু হয় তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা। গাজীপুরের পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রথমে মেয়রকে শোকজ করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এরপর তাকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন দল।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলমের একটা বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে কিছুদিন আগে। সেখানে দেখা গেছে, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে জাহাঙ্গীর অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন।  আমাদের চেতনার মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তার যে কটূক্তি করেছেন।  তার ওই বক্তব্য প্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই আওয়ামী পরিবারসহ সর্বস্তরের মানুষ এর প্রতিবাদ করেছে,মিছিল করেছে, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। দীর্ঘ দশদিন তারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। এরপর জাহাঙ্গীরকে শোকজ করা হয়েছে। যেহেতু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি টেকওভার করেছে, তাই মানুষ ডাইরেক্ট আন্দোলন থেকে সরে দলের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়েছিল। সে জবাবও দিয়েছে।’