আজ ও আগামী দিন অনলাইন সংবাদেরঃকিছু প্রত্যাশা

    0
    297

    “সেদিন খুব বেশী দূরে নয় যেদিন হাতে গোনা দায়িত্ববান কাগজের পত্রিকা  কয়েকটি  ছাড়া মৌসুমি পত্রিকা গুলোকে কোন জাদুঘরেও দেখা যাবে কি না সন্দেহ! তবে এ কথা নির্ভয়ে বলা যায় যে,নিউজ সম্প্রচারে অনলাইন সবচেয়ে শক্তিশালী  ও গন মানুষের প্রত্যাশা পুরনের অনন্য মাধ্যম।”

    আমারসিলেট24ডটকম,২৮মেঃ দুনিয়া জুড়ে তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের সাথে সাথে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সামনে অনেকটা হুমকির মুখে পড়েছে প্রিন্ট  মিডিয়া। যার ফলে পত্রিকাগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন অনলাইন সংস্করন প্রকাশ করতে।অপর দিকে যারা অনলাইন সাংবাদ মাধ্যমের সাথে পাল্লা দিতে অক্ষম তারা অনলাইন ভীতিতে ১১০ ডিগ্রি তাপে কোমায় ভুগছে।দেশের সরকার ও সাধারণ জনগণের ডিজিটাল বাংলার পুর্ন রূপ দিতে এ দেশের দামাল ছেলেরা হাল ধরেছে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে। এরই মধ্যে অবস্থা দেখেএবং পাঠকদের চাহিদা অনুধাবণ করে দেশের দিশারী হিসেবে খ্যাত আমরা যাদের রাহবার জানি তারা যেমন, প্রথম আলো, সমকাল, মানব জমিন, কালের কন্ঠ, বাংলোদেশ প্রতিদিন,মানব কণ্ঠ,ইনকিলাব,যায়যায় দিন,জন কণ্ঠ, ভোরের কাগজসহ অনেকেই তাদের অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও বেশ কিছু পত্রিকার।

    প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি রেডিও-টিভির অস্তিত্বেও হাত দিয়েছে অনলাইন সংবাদ।তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে তারাও এখন অনলাইন ওয়েব পোর্টালের দিকে ঝুঁকছে। এরই মধ্যে সময় টিভি,একাত্তর টিভি  সহ কয়েকটি চ্যানেল অনলাইনে বেশ সমাদৃত হয়েছে।কার্যক্রম হাতে নিয়েছে অন্যান্য টিভি চ্যানেল গুলোও।

    লক্ষণীয়,আরব বিশ্বে সংবাদের জন্য সবচাইতে জনপ্রিয় আল জাজিরা চ্যানেলেরও রয়েছে অনলাইন সংবাদ সংস্করন।সম্প্রতি আরব বিশ্বে যে ‘ আরব বসন্ত’ দেখা দিয়েছিল তার উত্থান ও কিন্তু এই অনলাইন সংবাদ থেকেই।

    সম্প্রতি বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে যে গণজাগরণ হয়ে গেল তার প্রচার প্রসারে কিন্তু অনলাইন গণমাধ্যমই গুরুত্ব পেয়েছিল। একই সাথে হেফাজতের ঢাকা দখল ও তাদের আসল রুপ প্রকাশে সবচেয়ে গুরুত্ব পুর্ন দ্বায়িত্ত পালন করেছে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম।

    আমাদের দেশে প্রথম অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ২৪ডটকম, পরে বাংলানিউজ২৪ ডটকম এর মত কয়েকটি অনলাইন ক্রমান্নয়ে যাত্রা শুরু করলে পাঠকদের কাছে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। সে থেকে আলোচিত হতে থাকে অনলাইন সংবাদ।বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েকশ ওয়েব পোর্টাল আছে। আর এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

    এখানে কাগজের পত্রিকার মত সংবাদ, ছবি যে কোন সাইজের অডিও এবং ভিডিও ফাইল আপ লোড করা যায়  ।তাছাড়া সংবাদ পাওয়া যায় যখন তখন। কাগজের পত্রিকা,রেডিও, টিভি চ্যানেলের মতসময় মানার দরকার  হয় না। যখন যা ঘটছে সাথে সাথে তা প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে।আর এটাই মূলত অনলাইন সংবাদপত্র বিকাশের মুল কারণ। যে কারনে বর্তমানে বড় বড় বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিজ্ঞাপন প্রদান বাজেটে অন্তুর্ভুক্ত করেছে অনলাইন মিডিয়াকে।

    তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাংবাদিকতাও তাল মিলিয়ে চলছে। উন্নত বিশ্বে আজকাল বলা হয়ে থাকে ‘নো কম্পিউটার নো জার্নালিজম’। তাহলে যুগের সাথে যারা পিছনে পরে আছে তাদের কাছে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম একটি আতংক অগ্রসরমান।তাই বলা যায় ভবিষ্যতে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুলো আরো অনেক ভালো করবে।

    বলাবাহুল্য গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যম খুবই গুরুত্বপুর্ণ। “এক্ষেত্রে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম খুব অল্প সময়ে মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয়। দিন দিন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব বাড়ছে বলে একটি অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু”।

    তিনি রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের কারণে অনলাইন সংবাদমাধ্যমেরজনপ্রিয়তা বাড়ছে। একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যম গুলোকেও আরও দায়িত্বশীল হতে হবে” তথ্যমন্ত্রী অনলাইন গণমাধ্যমের এমন পথচলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় কাজ করার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন,অনলাইন সাংবাদিকতা খুবই স্মার্ট পেশা। অন্যান্য পেশাকে পেছনে ফেলে এ জগতঅনেক দূর এগিয়ে গেছে। অদূর ভবিষ্যতে অনলাইন সাংবাদিকতাই একমাত্র সংবাদমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।অনলাইন সাংবাদিকদের সাথে এক আড্ডায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসব বলেন।

    “অনলাইন পত্রিকার লাইসেন্স ফি শিরোনামে প্রিন্টিং মিডিয়া সহ কয়েকেটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা সংবাদ প্রচারিত হওয়ায় অনলাইন নীতিমালা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফা জব্বার ও বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়নের সভাপতি শামসুল আলম স্বপন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।তিনি যৌথভাবেএক প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করেন কোন দায়িত্বশীল সংবাদপত্র ও নিউজ পোর্টাল এমন ভুঁয়া, বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রচার করতে পারে না।

    বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা গত ১৮ফেব্রুয়ারী অনলাইন লাইন নীতিমালা কমিটির চুড়ান্ত বৈঠক করি। ওই সভায় বনপা’রসভাপতি শামসুল আলম স্বপন প্রস্তাব করেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল রেজিষ্ট্রেশন নিতে নাম মাত্র ফি (টোকেন মানি) ধার্য করা হোক। তার প্রস্তাবই কমিটি অনুমোদন করে। অনলাইন নীতিমালার তৈরীর কাজ প্রায় চুড়ান্ত। কিন্তু একটি মহলনীতিমালা নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে পোর্টাল মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তিসৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ওই রিপোর্টে আমার নাম ব্যবহার করা হলেও আমার সাথে কোন সাংবাদিক কথা বলেনি। তিনি ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানান ।
    একই ভাবে বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়ন (বনপা)’র সভাপতি শামসুল আলম স্বপনপ্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “এক শ্রেনীর সংবাদমাধ্যম ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার পায়তারা করছে। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তারাফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পোর্টাল মালিকদের স্বার্থে বনপা’রপ্রস্তাবে অনলাইন নীতিমালা অনেক সহজ করা হয়েছে। এই নীতিমালা পাস হলে সকলপোর্টাল মালিকগণ বিজ্ঞাপনসহ বেশ কিছু সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

    তিনি  এও বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল রেজিষ্ট্রেশন নিতে নীতিমালাতে পাঁচ লাখটাকা কেন পাঁচ টাকার কথাও উল্লেখ করা হয়নি। বনপা থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে“নাম মাত্র ফি” যা অনলাইন নীতিমালা বাস্তবায়ন কমিটি গ্রহন করেছে। কিন্তুদেশের নামী দামি কয়েকটি নিউজ পোর্টাল মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেতথ্যমন্ত্রণালয় তথা সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমুলক কর্মকান্ড চালিয়েছে যাদু:খজনক। অনলাইন নীতিমলার কমিটির সদস্য ও বনপা’র সভাপতি শামসুল আলম স্বপনদায়িত্বহীন সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সাথেমিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে দেশের প্রিন্টিং মিডিয়া সহ অনলাইন মিডিয়ার মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
    উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা (খসড়া) নীতিমালা ২০১২ঘোষণা করার পর “বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়ন (বনপা)” সর্বপ্রথম ওই নীতিমালার বিরোধীতা করে আন্দোলনের ডাক দেয় । বনপা’র উদ্যোগেএকই সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টালমালিক-সম্পাদকদের নিয়ে জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তথ্যমন্ত্রীহাসানুল হক ইনু ও তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান উপস্থিত হয়েঅনলাইন নিউজ পোর্টালের পক্ষে অবস্থান নেন। তথ্যমন্ত্রী পরে অনলাইন নীতিমালাবাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেন।

    সম্প্রতি ১৭মে২০১৪ ইং তারিখে চট্টগ্রামের এক হোটেলে বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, প্রযুক্তিবিদ, লেখক, সাহিত্যিক ও চট্টগ্রামের নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকরা উপসি’ত ছিলেন  এমন একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, আজ থেকে ১০ বছর আগেও আমরা চিন্তা করতে পারিনি নিউজ এভাবে হাতের মুঠোই পাব। এটা ডিজিটালের বাস্তবায়ন যা প্রধানমন্ত্রীর কারণে সম্ভব হয়েছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, নিউজ সম্প্রচারে অনলাইনই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। বিশেষ করে স্মার্টফোনের কারণে মানুষ যে কোন অবস্তায় নিউজ পোর্টাল থেকে মুহুর্তেই খবর পেয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় কোটি সোনার ছেলে যারাবিদেশে বসে ও একমাত্র অনলাইন নিউজের মাধ্যমে দেশের খবরাখবর মহুর্তেই জেনে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে। তারা দেশে না থেকেও দেশের খবর জানতে পারছে তাৎক্ষণিক।তিনি নিউজ পোর্টাল এডিটরদের উদ্দেশে আরও বলেন, আপনারা আজ প্রতিষ্ঠিত।আপনাদের দায়িত্ববোধ আছে। আপনাদের এই সুসংগঠিত সংগঠনকে আমি স্বাগত জানাই।আমি চাই, আপনারা সরকারের সমালোচনা করেন। তবে সেটি হবে পরিচ্ছন্ন ও গঠনমূলক।

    একই অনুষ্ঠানে অনলাইন নীতিমালা প্রণয়ন কমিটিরসভাপতি মোস্তাফা জব্বার ঢাকাথেকে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উপশ্তিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েবলেন, আগামীর দিন অনলাইনের। বর্তমানে দেশে ৩কোটি অনলাইন ও ১কোটিফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে। অনলাইন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকার একটি কমিটিগঠন করেছে। তিনি আরো বলেন, সরকার অনলাইন নিউজ পোর্টালের গলা টিপে ধরবে না।নিউজ পোর্টালের কোন ফিও দেয়া লাগবে না। এই নিশ্চয়তা দিতে পারি, এইনীতিমালা সবার পছন্দ হবে।

    পরিশেষে একথা বলা যায় যে, “সেদিন খুব বেশী দূরে নয় যেদিন হাতে গোনা দায়িত্ববান কাগজের পত্রিকা গুলো ছাড়া মৌসুমি পত্রিকা গুলোকে কোন জাদুঘরেও দেখা যাবে কি না সন্দেহ! তবে এ কথা নির্ভয়ে বলা যায় যে,নিউজ সম্প্রচারে অনলাইন সবচেয়ে শক্তিশালী  ও গন মানুষের প্রত্যাশা পুরনের অনন্য মাধ্যম।”