আমার নাম না থাকলেও চলবেঃপ্রধানমন্ত্রী

    0
    199

    আমারসিলেট24ডটকম,০৬জানুয়ারীঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি সব কিছু করি আমার মনের তাগিদে। আমি এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। আমার নাম না থাকলেও চলবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমার একমাত্র লক্ষ্য। এ সময় তিনি তার নামে নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করায় নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে যাতে তার নামে দেশে আর কোনো প্রতিষ্ঠান নির্মাণ না করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলে, প্লিজ, ভবিষ্যতে আর কোনো কিছু আমার নামে হবে না।

    আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলানগর পরিকল্পনা কমিশনের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবিনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
    এদিকে আজকের বৈঠকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন সংকট দূর করতে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও একটি ৫তলা ছাত্র হল ও ১টি ৫তলা ছাত্রী হল নির্মাণ করবে। এ ছাত্রী হলের নাম প্রধানমন্ত্রীর নামে নির্মাণ করার প্রস্তাব করা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় একনেক সভায় সংশ্লিষ্টরা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার আবদারের ফলে হলের নামকরণ আপনার নামে করা হচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, এবারের মতো আমার নামে নির্মাণ করা হোক। তবে ভবিষ্যতে যেন আর না হয়।
    এছাড়া আজকের একনেক সভায় ‘কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাইপাস সড়কের পরিবর্তে উড়ালসেতু নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি  বাইপাস নির্মাণ খরচ ও উড়ালসেতু নির্মাণ খরচের তুলনামূলক চিত্র তৈরির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
    উড়ালসেতু নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উড়ালসেতু ও বাইপাস নির্মাণে যদি সমপরিমাণ খরচ হয় তবে আমরা আর বাইপাস নির্মাণ করবো না। আমরা উড়ালসেতু নির্মাণ করবো। কারণ, উড়ালসেতু নির্মাণ করলে আমরা আমাদের আবাদি জমি রক্ষা করতে পারবো। বৈঠকে দুস্থ নারীদের জীবিকায়নের ব্যবস্থার জন্য ‘ইনভেস্টমেন্ট কমপোনেন্ট ফর ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ নামের একটি প্রকল্পেরও অনুমোদন দেয়া হয়।
    প্রকল্পের বিষয় প্রথমে আলোচনা করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। একনেক সূত্র জানায়, কৃষিমন্ত্রী বলেন, একজন নারীকে ভিজিডি কার্ড ইস্যু করতে হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ১ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন কোন এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ঘুষ খান, তাদের তালিকা আমার কাছে দিন। সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন দেশের  প্রধানমন্ত্রী।