ইউএনও ও এসিল্যান্ডের কারসাজিতে মোবাইল কোর্টে আটক সাংবাদিক রানার জামিন

0
159
ইউএনও ও এসিল্যান্ডের কারসাজিতে মোবাইল কোর্টে আটক সাংবাদিক রানার জামিন

শেরপুরের নকলা উপজেলার সংবাদ কর্মী শফিউজ্জামান রানার জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) অ্যাডিশনাল ডেপুটি ম‍্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহারের আদালত থেকে রানার জামিনের আদেশ দেন।

এদিকে দুর্নীতি অনুসন্ধানী তথ্য চাইতে যাওয়া সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের ঘটনায় শেরপুরের নকলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন বদলি হতে পারেন।
নতুবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে বদলি করা হতে পারে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিনের কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা আবেদন করেন। তিনি ওই আবেদনের রিসিভড কপি চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হন ওই ইউএনও। এ সময় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাংবাদিক রানাকে তার দশম শ্রেণীর পড়ুয়া ছেলেটির সামনেই লাঞ্চিত করে ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার শফিউজ্জামান তার ছেলে শাহরিয়ার জাহানকে সঙ্গে নিয়ে এডিপি প্রকল্পের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ক্রয়-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন। আবেদনটি কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী (সিএ) শীলার কাছে দিয়ে রিসিভড কপি (গ্রহণের অনুলিপি) চান। শীলা তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। শফিউজ্জামান অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর আবার শীলার কাছে অনুলিপি চান। তখন শীলা বলেন, ‘ইউএনওকে ছাড়া রিসিভড কপি দেওয়া যাবে না।’ পরে শফিউজ্জামান জেলা প্রশাসককে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। এতে ইউএনও আরও ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে নকলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও ও সিএ শীলার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শফিউজ্জামানকে আটক করে। পরে নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফ ওই কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শফিউজ্জামানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।