এইচটি ইমামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাঃইমাম বলছে ষড়যন্ত্র

    0
    211

    আমারসিলেট24ডটকম,১৭নভেম্বরঃ “বিতর্কিত” মন্তব্যের জের ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য।বৈঠক সূত্র জানা যায়, আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় তারা এ দাবি তুলেন। তবে এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কিছু বলেননি।

    বৈঠক সূত্র  আরও জানা যায়,  অনির্ধারিত আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু,  বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ,  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ  কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী এইচটি ইমামের প্রসঙ্গ তুলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এ ধরনের বক্তব্য দল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    তবে প্রধানমন্ত্রী সিনিয়র মন্ত্রীদের বক্তব্যের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন, সরকার বিব্রত হয় এ ধরনের কথা বলা থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সঙ্গে এ নিয়ে এইচ টি ইমামের কোনো কথা হয়নি। তার ফোন রিসিভ করেননি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এইচ টি ইমাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, “নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদেরকে দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে।”  ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। তার পরে আমরা দেখব।” তার এই বক্তব্যে দল ও বাইরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    অপরদিকে আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে দেয়া বক্তব্য গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। একটি মহল তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আজ সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এইচ টি ইমাম এসব কথা বলেন।
    এইচ টি ইমাম বলেন, বক্তব্য ছিল ৪৭ মিনিট। খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার করে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুরো বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে কোন পরিস্থিতিতে আমি কোন কথা বলেছি। তিনি সামগ্রিকভাবে তার বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। পুরো বক্তব্য প্রচার করলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে মনে করেন এইচ টি ইমাম।
    ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ না করে আইন ও নির্বাচনী বিধি মেনে তারা কাজ করেছেন। বক্তব্যে ‘সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড’ বলতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না।
    গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্যের সূত্র ধরে বিএনপি বলে আসছে, ওই বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে সরকার কোন মাত্রায় দলীয়করণ করছে। গণমাধ্যমে এসেছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে এইচ টি ইমাম বলেছেন, আমি নিজে অনেক উপজেলায় গিয়েছি। সেখানে আমাদের যারা ছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে আছে। তারা বুক পেতে দিয়েছে। জামায়াত-শিবিরের হামলায় পুলিশের ১৯ জন প্রাণ দিয়েছে।
    সরকারি চাকরিপ্রার্থী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ‘দেখবেন’ বলেও আশ্বাস দেন বলে খবর এসেছে।
    এ বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়ার জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, যারা পানি ঘোলা করে মাছ শিকারের মওকা খুঁজছেন তারা এমনটি করছে। তাদেরকে বলব মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকুন।