একুশে ডাক দিয়া যায় উজ্জীবনের

    0
    248

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০ফেব্রুয়ারী:আবার আসিয়াছে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জীবনে একুশে ফিরিয়া ফিরিয়া আসে নবজীবনের ডাক লইয়া। একুশে ডাক দিয়া যায় উদ্দীপনের, উজ্জীবনের। একুশে আমাদের বাতিঘর মননের। একুশে মহিমামণ্ডিত করিয়াছে বাঙালি জাতিকে। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার দাবিতে মিছিলে শ্লোগানে প্রকম্পিত হইয়াছিল গোটা বাংলাদেশ। সফিক, রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার বুকের রক্ত দিয়া যে ইতিহাস রচনা করিয়া গিয়াছেন, উহাই বাঙালির মাথা নত না করিবার চিরকালীন প্রেরণা হইয়া রহিয়াছে।

    ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়া যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টি হয়, তাহারই প্রতিফলন দেখিতে পাওয়া যায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে। পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরাচার এবং শোষণ বঞ্চনা বিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বাঙালির প্রাণে শক্তি ও সাহস জুগাইয়াছে ৫২-এর জাগরণ। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফার সংগ্রাম, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে জনতার রায়, একাত্তরের অসহযোগ এইভাবে—ধাপে ধাপে পরিণতি লাভ করে বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম। স্বাধিকারের দাবি রূপান্তরিত হয় স্বাধীনতার সংগ্রামে। নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৫২ সালের আন্দোলন মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য সূচিত হইলেও ইহার মূলগত চেতনাটি ছিলো আত্মমর্যাদাবোধ ও আপন অধিকার।

    মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালির রক্তে রচিত হয় একুশের যে সোপান, আজ উহা বিশ্বময় সকল ভাষা গোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদার প্রতীক হইয়া উঠিয়াছে। জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি প্রদান করিয়াছে। বিশ্বে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার সংখ্যা ৬ সহস াধিক, মতান্তরে ৭ হাজার। এইসব ভাষার অনেকগুলিরই নিজস্ব বর্ণমালা নাই। আবার অনেক ভাষা হারাইয়া গিয়াছে কিংবা হারাইয়া যাইবার উপক্রম হইয়াছে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি নি:সন্দেহে বিশ্বের প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার অধিকার ও সুরক্ষার সংকল্পদীপ্ত দিবস।

    বস্তুত : মাতৃভাষার সুরক্ষা, বিকাশ এবং ইহার অবাধ অনুশীলনের অধিকার ছাড়া কোনো জাতির অগ্রসরতার পথ প্রশস্ত হইতে পারে না। ইহার মানে এই নয় যে, মানুষ মাতৃভাষা ব্যতীত অন্যকোনো ভাষা শিখিবে না বা চর্চা করিবে না। বিশ্বায়নের এই যুগে এমনটি চিন্তাও করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ভাষাও শিখিতে হইবে বৈকি। এইবারের একুশে আসিয়াছে নবতর জাগৃতির আবহ লইয়া। তারুণ্যের জাগরণ এই ফেব্রুয়ারিকে উদ্ভাসিত করিয়াছে নূতন মাত্রায়। আজকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধায় আমরা স্মরণ করি ভাষা শহীদদের। কামনা করি তাঁহাদের বিদেহী আত্মার চির শান্তি। সেই সাথে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই বাহান্নর ভাষা সংগ্রামীদের। ইত্তেফাক