ঐশীকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায় তার ঘনিষ্ট বন্ধু জনি

    0
    228

    আমারসিলেট 24ডটকম , ২০সেপ্টেম্বর  : পুলিশের ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায় তার ঘনিষ্ট বন্ধু জনি (২৭)। নৃত্যশিল্পী দলের সঙ্গী হয়ে দুবাই সফরে যাওয়ার শখ ছিল ইংরেজি শিক্ষার্থী ঐশীর। কিন্তু মা-বাবা তাতে সম্মত ছিলেন না। তবে বন্ধু জনি তার এই শখ পূরণের আশ্বাস দেয়। এর পর জনির হাত ধরেই ঐশীর প্রথমবারের মতো ডিজে পার্টিতে যাওয়া। তারপর আধুনিক নৃত্যদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া, ইয়াবা সেবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা এবং মা-বাবা হত্যা করা এসব কর্মকাণ্ডে জনি ছিল ঐশীর সার্বক্ষণিক সহায়তাকারী। হত্যাকাণ্ডের শিকার মা-বাবার মরদেহ ঘরে রেখেই “ঘনিষ্ঠ” বন্ধু জনির সহযোগিতা চায় ঐশী। জনিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। দুবাই পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। দুবাই যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থাও করে দেয় সে।
    হত্যার আগেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম। চাঞ্চল্যকর পুলিশ দম্পতির হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন পলাতক ও তাদের মেয়ের বন্ধু জনিকে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে তাকে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ৯ নম্বর রোড ৪০ নম্বর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
    গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন তিনি। এ সময় উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান, ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মোখলেসুর রহমান।
    সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যে মনিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ৯ নম্বর রোডের ৪০ নম্বর বাড়ি থেকে আসাদুজ্জামান জনিকে গ্রেপ্তার করে। জনি এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্ররোচনাকারী ও ইন্ধনদাতা। তিনি বলেন, ঐশী রহমান ছাড়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি আর কেউ অংশ নেয়নি। তবে জনি তাকে প্ররোচনা দিয়েছে এবং পরিকল্পনা করেছে। হত্যাকাণ্ডের আগে জনি ঐশীকে দুবাই পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পর তার বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দিয়ে উত্তর মুগদার মদিনাবাগের একটি বাড়িতে বাসা ভাড়া করে দেয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। তিনি আরো বলেন, জনি একজন মাদক ব্যবসায়ী। সে নৃত্য পরিচালক পরিচয় দিয়ে এর আগেও বিভিন্ন শিল্পীকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আসাদুজ্জামান জনি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মোহাম্মদ জামালের ছেলে। এর আগে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জনির সহযোগিতার বিষয়টি জানায় ঐশী। পুলিশের তদন্তে জনির আরেক বন্ধু সাইদুলের নামও উঠে আসে। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
    আদালত প্রতিবেদক জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আবুল আল খায়ের গতকাল মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে জনিকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
    প্রসঙ্গত গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগের ভাড়া বাসা থেকে পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে নিহত দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান ও গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি। অবশ্য কারাগারে পাঠানোর পর ঐশী অভিযোগ করে, ভয় দেখিয়ে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। আর সুমি গাজীপুরের কিশোরী সংশোধনাগারে রয়েছে। এর আগে ঐশীর বয়স বিতর্ক উঠায় তার বয়স পরীক্ষায় ডাক্তারী পরীক্ষা করে ১৯ বছর হয়। হত্যাকাণ্ডের পর আলামত উদ্ধার করে ফরেনসিক রিপোর্ট করার পর এবং ডিবি সর্বশেষ তদন্তে ঐশী তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে এবং জনিসহ অন্যরা সহযোগিতা করেছে।