ঐশীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন

    0
    229

    আমারসিলেটটোয়েন্টিফোর.কম ০৫ সেপ্টেম্বর  : রিমান্ডে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানোর কারনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন বাবা-মা হন্তারক ঐশী রহমান। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমান বলেন, আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। তার এ জবানবন্দি সত্য এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিতও নয় বলেও দাবি করেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন আবেদনের শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করার পর তিনি ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদন করেন। এদিকে বিচারক ঐশীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
    ঢাকার মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহর আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে ঐশী বলেন, আমি (ঐশী রহমান) এ মামলার আসামি। বিগত ১৭ আগস্ট পল্টন থানায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করিলে আমাকে নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে এবং আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে গত ১৮ আগস্ট আমাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে বলে যে, আমাদের কথামতো তুমি যদি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সামনে আমাদের শেখানো কথা না বলো, তাহলে তোমাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মেরে ফেলবো অথবা ক্রসফায়ারে মেরে ফেলবো। তোমরা সমাজের কীট! আবর্জনা!
    ঐশী তার আবেদনে বলেছে, আমি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং মৃত্যুর ভয়ে তাদের শেখানো কথা আদালতে গিয়ে বলতে বাধ্য হই। গত ২৪ আগস্ট তারিখে আদালতে আমার প্রদত্ত জবানবন্দি সত্য নয় এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিতও নয়। আমি অদ্য (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞ আদালতে দেয়া আমার জবানবন্দি প্রত্যাহারের প্রার্থনা করছি। এ সময় ঐশীর পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী মাহাবুব হাসান রানা ও এটি এম আসাদুজ্জামান। শুনানি শেষে বিচারক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
    এর আগে গত ১৭ আগস্ট মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের মেয়ে ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে। ২৪ আগস্ট পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার কিশোর আদালতের বিচারক মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার ছাদাতের আদালতে ঐশী নিজ হাতে তার মা-বাবাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঐশীদের বাসার কাজের মেয়ে খাদিজা খাতুন সুমিও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।