কঠোর অবস্থান থেকে ইউটার্ন ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রীর

    0
    202

    আমারসিলেট24ডটকম,২৩মেঃ বাংলাদেশ নিয়ে ভোটের আগে বিজেপি ও নিজের দেয়া বক্তব্য ও কঠোর অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিলেন ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদাস মোদি। ভারতে লোকসভা ভোটের আগে মোদি আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী ও অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন।
    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন ১৬ মে’র পর “বাংলদেশী’দের বাক্স- পেটঁরা গুছিয়ে ফেরত পাঠানো হবে”। কিন্তু নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার তার সেই অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়েছেন মোদি।
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলি-আলাপে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম ঢাকা সফরের আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি ইউপিএ সরকারের ব্যর্থতায় ঝুঁলে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে জমি ও তিস্তার জল বন্টনের বিষয়ও মিটিয়ে ফেলবেন হবু প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সাউথ ব্লকের একাধিক জেষ্ঠ কর্মকর্তাকেও নাকি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
    আসামের একটি পত্রিকা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আসামে এসে সীমান্তে জমি চুক্তি রুপায়নের ব্যাপারে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছিলেন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সর্বানন্দ সনোয়াল গত কয়েকদিন আগেও বলেছেন, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশের বিষয়ে বিজেপি ভোটের আগে তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দিল্লিতে সরকার গড়ার পর তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

    সীমান্তে জমি চুক্তির বিষয়টি বিশবাঁও জলে ফেলে তিনি বলেছিলেন, জমি চুক্তি রুপায়নের প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপির আরেক নেতা সুব্রাক্ষ্মনিয়ম স্বামী গুয়াহাটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তে জমি চুক্তির রুপায়ণ তো দূরের কথা দেশভাগের সময় ভারতে আসা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশীদের বাসস্থানের জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে এক তৃতীয়াংশ জমি দাবি করেছিলেন।
    ভোটের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকারী বিজেপি সংসদীয় দলের প্রধান নরেন্দ্র মোদি শপথের দিন আমন্ত্রণ জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সঙ্গে পাকপ্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফসহ সার্কের সবদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীদের শপথে বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতির রেওয়াজ না থাকলেও মোদি রাষ্ট্রপ্রতি প্রণব মুখার্জিকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন, যাতে প্রতিবেশি সার্কের দেশগুলোর রাষ্ট্র প্রধানরা থাকেন। সে অনুযায়ী দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকও এসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রনপত্রও পাঠানো হয়। টেলিফোন করেও যোগাযোগও করা হয়।
    পত্রিকাটি জানিয়েছে, ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বাংলাদেশকে ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনা কে সীমান্তে জমি ও তিস্তার জল বন্টন চুক্তির বিসয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে বিজেপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
    দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে যুগশঙ্খ আরো জানায়, লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করার সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিনন্দন জানাতে মোদিকে ফোন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথশ বিদেশ সফরে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। টেলিফোনে হাসিনার সঙ্গে মোদির কথোপকথন চলাকালীন প্রসঙ্গ উঠে জমি চুক্তি ও তিস্তার জল বন্টনেরও বিষয়টিও।
    এ সময় দুই দেশের মধ্যে জোরালো দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য একটি ‘অর্থবহ এবং বাস্তব’পদক্ষেপ নেবেন বলে মোদি হাসিনাকে জানান।
    প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আন্তরিক এবং বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্তে জমি ও তিস্তা চুক্তিকেই মোদি অগ্রাধিকার দেবেন বলে হাসিনাকে জানান।
    পত্রিকাটির খবরে বলা হয়েছে, ভোটের আগে বিজেপি সীমান্তে জমি চুক্তির রুপায়ণে ঘোর বিরোধিতা করলেও ক্ষমতা গ্রহণের আগ মুহূর্তে তাদের সুর নরম করেছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলি-আলাপের বিষয়টিতে তা পরিষ্কার।
    কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের আগে বিজেপি ও মোদির দেয়া বক্তব্য ছিল নিছকই ভোট প্রচারের সুবিধার্থে। বাস্তবতা হলো যেই ক্ষমতায় আসুক, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি অনুয়ায়ী তাকে চলতে হবে। তাছাড়া ভোটের আগেও জমি চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশকে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে বিজেপি। তার বড় প্রমাণ সর্বশেষ রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপিত হলে বিজেপি তার বিরোধিতা করেনি। তার আগে অবশ্য বাংলাদেশের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী দীপু মনি দেখা করেছিলেন রাজ্যসভায় বিজেপির তখনকার নেতা অরুণ জেটলির সঙ্গে। নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক এ করিম গুজরাট গিয়ে দেখা করেন মোদির সঙ্গেও।
    সেই সময়ই জমি চুক্তি রুপায়নের বিষয়টি ফাইনাল হয়ে আছে। টেলিফোনে শেখ হাসিনাকে জমি চুক্তির রুপায়নের আশ্বাস সেটিও একটি  ধারাবহিকতা।