কানাইঘাটে পাথর উত্তোলন বন্ধঃ শ্রমিকদের আহাজারি

    0
    261

    আমারসিলেট 24ডটকম ,২২সেপ্টেম্বর,বদরুল ইসলামবিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগে লোভাছড়া পাথর কোয়ারীতে এক সপ্তাহ যাবৎ পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার কর্মজীবি মানুষের একমাত্র কর্মসংস্থান পাথর কোয়ারীটি বন্ধ হওয়ায় বারকী শ্রমিকদের পরিবার পরিজন অনাহারে অর্ধাহারে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করার সংবাদ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে লোভা পাথর কোয়ারীর শ্রমিক নেতা জামাল উদ্দিন বলেন, এলাকার পাথর ব্যবসায়ী সমিতির একটি গ্র“প স্থানীয় শ্রমিকদের বঞ্চিত করে বহিরাগত ছাতক ও সুনামগঞ্জ থেকে বারকী নৌকাসহ শ্রমিক নিয়ে এসে পাথর উত্তোলনের কাজ করাচ্ছেন।

    এসব শ্রমিকরা “শ্যালো মেশিন” ব্যবহার করে ৩০/৪০ ফুট পানির নিচ থেকে পাথর উত্তোলন করছে। শ্যালো মেশিন পরিবেশের জন্য হুমকী স্বরূপ বিধায় অন্যান্য কোয়ারীতেও এসবের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থের জন্য পরিবেশ বিনষ্টকারী নিষিদ্ধ ঘোষিত শ্যালো মেশিনের সাহায্যে সস্তা শ্রমের বিনিময়ে পাথর উত্তোলনে উৎসাহ দিচ্ছে। শ্রমিক নেতা কামাল উদ্দিন আরো বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে স্থানীয় শ্রমিকরা পরিবেশ ধ্বংসকারী “শ্যালো মেশিন” ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করায় পাথর ব্যবসায়ীদের একটি গ্র“প এবং তাদের লাঠিয়াল বাহিনী স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পাথর উত্তোলন করতে দিচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, এসব কাজে ইন্ধন দিচ্ছেন পাথর ব্যবসায়ী হাজী বিলাল আহমদ ও হাজী আব্দুল মালিক ট্রেডার্স। লোভানদীর তীর খনন করে পাথর উত্তোলন করায় পরিবেশ দুষণ আইন ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কানাইঘাট থানা থেকে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

    অন্যদিকে হাজী বিলাল আহমদ বলেন, বহিরাগত শ্রমিকদের প্রতিটি নৌকা থেকে লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়ে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে লোভা ছাড়া বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুবেদারের সাথে কথা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলনের চেষ্টা করলে আমরা সাথে সাথে তা বন্ধ করে দিয়েছি। বর্তমানে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া অনেক সময় উশৃঙ্খল শ্রমিকরা ন’ মেন্সল্যান্ড এবং সীমান্ত অতিক্রম করে পাথর উত্তোলনের চেষ্টা করলে আমরা তাদের প্রতিহত করি। বিজিবির পক্ষ থেকে বৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে সবসময় শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।