কামারুজ্জামানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তার আইনজীবীরা

    0
    200

    আমারসিলেট24ডটকম,নভেম্বরঃ মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেছেন, আমি জীবনে কখনো সোহাগপুরে যাইনি! এবং এই বিচার হওয়ার পরই আমি প্রথম সোহাগপুরের নাম শুনেছি!

    কামারুজ্জামানের সঙ্গে আপিলের রায়ের বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তার আইনজীবীদের কাছে এ কথা বলেন কামারুজ্জামান এমনটিই জানালেন তার আইনজীবী।

    তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির আরও বলেছেন,কামারুজ্জামান তাকে বলেছেন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে তা তিনি দেখবেন। তা দেখে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি। রিভিউ আবেদনে যে যে অপরাধের জন্য  তাকে সাজা দেয়া হয়েছে তার ব্যাখাও দেবেন বলে জানান তিনি।

    নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নতুন প্রজন্মকে সত্য ঘটনা জানানোর আহ্বান জানান কামারুজ্জামান! মনির বলেন, “তিনি বলেছেন ইসলামী আন্দোলন করায় তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র, জুলুম ও নির্যাতন করা হচ্ছে!”

    মনির বলেন, কামারুজ্জামান সুস্থ, স্বাভাবিক আছেন। ফাঁসির রায় শুনে তিনি মোটেও বিচলিত নন।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওই আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিভিউ করা কামারুজ্জামানের সাংবিধানিক অধিকার। সুতরাং রিভিউ আবেদন এবং পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে ফাঁসি আইনবহির্ভূত।

    ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সাথে তার ৫ আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তার সাথে দেখা করতে কারাগার ফটকে যান তারা। এরপর সকাল সোয়া ১০টায় জেলকর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। ৫ আইনজীবীরা হলেন, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যরিস্টার নাজিব মোমেন, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, এডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও এডভোকেট মশিউল আলম। এডভোকেট শিশির মনির জানান, রায়ের রিভিউ’র বিষয়ে কথা বলতে আমরা কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করতে এসেছি। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কারা আইনজীবীরা কর্তৃপক্ষের কাছে দেখা করার আবেদন করলে কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করার অনুমতি দেন সিনিয়র জেল সুপার। তার আগে বুধবার সকাল ১০টার দিকে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
    কারাগার থেকে বের হয়ে এডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, কামারুজ্জামান সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। তিনি শারীরিক-মানসিকভাবে স্বাভাবিক ও অবিচল আছেন। কামারুজ্জামান কী বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি (কামারুজ্জামান) নতুন প্রজন্মকে দেশের জন্য কাজ করতে বলেছেন, মানুষকে ভালোবাসতে বলেছেন। তার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার হয়েছে তা একদিন মিথ্যা প্রমাণিত হবে এবং বলেছেন নতুন প্রজম্মের হাত ধরে এদেশে ইসলামের বিজয় আসবে।
    শিশির মনির বলেন, কামারুজ্জামান আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় বের হলে রিভিউ আবেদন করতে বলেছেন। এটা তার সাংবিধানিক অধিকার। কাদের মোল্লারও রিভিউ আবেদন হয়েছিল। তবে সে রিভিউ আবেদনের রায় এখনো প্রকাশ হয়নি বলে কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা জানান। কারাগারে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমাভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্ন এখন আসছে কেন। চূড়ান্ত আইনী প্রক্রিয়া তো এখনো শেষ হয়নি। আপিলের চূড়ান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা হবে। এটা কামারুজ্জামানের সাংবিধানিক অধিকার।

    এ সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকরা কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের সুযোগ নেই জানালে- তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী ও বিজ্ঞ এটর্নি জেনারেল যা বলছেন তার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। আইনের কোথাও নেই কামারুজ্জামান কেন রিভিউ আবেদন করতে পারবেন না। ওনারা যা বলছেন তা ঠিক নয়।
    উল্লেখ্য,গত সোমবার আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর রিভিউ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত একটা রায় (আব্দুল কাদের মোল্লার রায়) আছে, যেখানে রিভিউ পিটিশন ডিসমিসড হয়ে রায় কার্যকর হয়েছে। আমাকে সেটা ধরে নিয়ে রায় কার্যকর করার প্রস্তুতির আদেশ দিতে হবে। আমি সেই আদেশ দিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে বলব, ফাঁসির রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নেয়ার, সেগুলো নেয়ার জন্য।
    তার আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, আপিল বিভাগ যেহেতু ট্রাইব্যুনালের সাজাই বহাল রেখেছে, সেহেতু দণ্ড কার্যকরে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আইনমন্ত্রী ও এটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের আগে সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। এতে এ জামায়াত নেতার দণ্ড কার্যকর নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। তবে দেখা করে বেরিয়ে কামারুজ্জামানের ছেলে ইকবাল হাসান ওয়ামী সাংবাদিকদের বলেন, এটাকে শেষ দেখা ভাবছেন না তারা।
    প্রসঙ্গত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। এরপর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মঙ্গলবার দুপুরে কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। একাত্তরের কুখ্যাত গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংগঠক ছিলেন কামারুজ্জামান। রাজধানীর পল্লবী থানায় করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই বছরের ২ অক্টোবর তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ৪ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ গঠন করেন। গত বছরের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলে ৬ জুন তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেন।