কাশ্মির সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তান সেনাদের সংঘর্ষ

    0
    233

    কাশ্মির নিয়ে ভারতের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর পাকিস্তান সরকার সেদেশ থেকে ভারতের হাইকমিশনারকে বহিষ্কার এবং নয়াদিল্লীর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করাসহ বেশি পদক্ষেপ নেয়ায় উত্তেজনা তীব্রতর হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কাশ্মির সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তান সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

    সংবাদ সূত্রে জানা গেছে সীমান্তে খুব ভারি গোলাগুলি হয়েছে। কাশ্মির সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু শক্তিধর এ দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থান থেকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের অভ্যন্তরীণ অবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। ভারতের সরকার ও পার্লামেন্ট সম্প্রতি অপ্রত্যাশিতভাবে কাশ্মিরি জনগণের বিরুদ্ধে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা সাম্প্রতিক দশকগুলোতে নজিরবিহীন ঘটনা। সংবিধান সংশোধন করে জম্মু কাশ্মিরের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ সুবিধা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই এলাকায় হিন্দুদের জমি কেনার সুযোগ ও আবাসনের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে যার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্থানীয় কাশ্মিরি জনগণকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখা এবং তাদের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেয়া।

    বিশেষ করে, বিজেপি সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার একই সঙ্গে কাশ্মীরে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে, সেখানকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং গত কয়েক দিনে বিভিন্ন দলের বহু নেতাকে গ্রেফতার করেছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস কাশ্মিরিদের বিরুদ্ধে সরকারের এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত বিপর্যয়কর ও বিপজ্জনক অভিহিত করে এর কঠিন পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।

    বর্তমানে কাশ্মীরে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে এবং উত্তেজনার পারদ সীমান্ত এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে।

    পরিস্থিতি যা তাতে অনেকের মতে উত্তেজনা কেবল দু’দেশের সীমান্ত এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইন্টারনেট ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডেইলি বেস্টে ম্যাথিও ক্লেফাইল্ড তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, “ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তে গোটা ওই অঞ্চল আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। ভারত বাড়তি সেনা মোতায়েন করা ছাড়াও কাশ্মিরি নেতাদের গ্রেফতার করায়, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ায় সেখানকার জনগণ কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অধিকাংশ মানুষ এখনো জানে না তাদের ব্যাপারে ভারত সরকার কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অবস্থায় ভারত কাশ্মির নিয়ে যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তাতে ওই অঞ্চলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

    অনেকের মতে গোলযোগ শুধু ওই এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং তারা ভারতের সাম্প্রতিক এসব পদক্ষেপকে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় আগুন নিয়ে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভারতের প্রধান বিরোধী দল সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করায় বলা যায়, বিজেপি সরকার অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছে।

    গতরাতে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, কাশ্মির ইস্যুটি কত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি দল ক্ষমতায় এসেছিল। এ অবস্থায় কাশ্মিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে ও যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে বিজেপি সরকার তার ওই প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারবেন কিনা সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।পার্সটুডে