ক্যামেরায় ধারণ করছে পুরো চিত্রঃনাশকতাকারী ধরতে লাখ টাকা

    0
    227

    “হামলাকারীদের উদ্দেশে গুলি ছুড়লে তাতে পথচারীরা আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার শেল নিক্ষেপেও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুলিশের এ সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা ঘটনা ঘটাচ্ছে ব্যস্ত এলাকাতেই”

    আমারসিলেট24ডটকম,১ডিসেম্বরঃ রাজধানীতে সহিংসতায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি পুলিশ নিয়েছে একটি  ভিন্ন “কৌশল”। বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল সামাল দেওয়ার পাশাপাশি আরেকটি দল ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করবে ঘটনার পুরো চিত্র। সাদা পোশাকের এই ক্যামেরা টিমের ফুটেজ ছাড়াও গণমাধ্যমের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে অপরাধীদের চিত্র। আর এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে তাদের। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অপরাধী শনাক্তে তথ্য দিয়ে সহায়তার বিনিময়ে লাখ টাকার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে এরই মধ্যে।গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মতিঝিলে বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগে ১১ জনের ছবি দিয়ে লিফলেট ছেপে তাদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

    রাজধানীর  মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বোমাবাজ ও নাশকতাকারীদের শনাক্তে পুলিশ নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মাধ্যমেও গোয়েন্দা সদস্যরা তথ্য পাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে ছবিসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচার বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধ কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে এ ধরনের অপরাধী গ্রেপ্তার করা সহজ হবে।

    গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ১১ জনের ছবি দিয়ে তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচারিত এ লিফলেটে যাদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাদের বাইরেও বোমাবাজ এবং নাশকতাকারীদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। লিফলেটে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ১৩ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ছবিতে প্রদর্শিত সন্ত্রাসীরা ফকিরাপুল ও মতিঝিল এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই সন্ত্রাসীরা দেশ ও জাতির শত্রু। এই শহরের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। এদের ধরিয়ে দিন। প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী/ তথ্য প্রদানকারীকে এক লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে। সহায়তাকারী/ তথ্য প্রদানকারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে। বোমাবাজ ও নাশকতাকারীদের ব্যাপারে তথ্য গ্রহণে গোয়েন্দা পুলিশের কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ৯৩৬২৬৪০, ০১১৯১-০০১১০০, ০১৬৭৮-০২৪৬৫২ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া dmpmedia@dmp.gov.bd ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে। ফেসবুকে dmp.dhaka নামে একটি পাতাও খোলা হয়েছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে রাস্তায় নেমে অনেকেই অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ নাশকতামূলক কাজে অংশ নিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা বোমা হামলা চালাচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারছে। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সে তুলনায় অপরাধী শনাক্ত ও গ্রপ্তোর হচ্ছে কম। স্থানীয়রা এসব অপরাধীর পরিচয় ঠিকমতো জানাতে পারছে না। গোয়েন্দারাও পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করলেও হামলাকারীর ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না। আর বোমা হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনাগুলো অপরাধীরা ঘটাচ্ছে হঠাত্ করে জনবহুল এলাকায়। সে ক্ষেত্রে আশপাশে পুলিশ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।