গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নবীগঞ্জে রাখাল খুন!

0
178

নূরুজ্জামান ফারুকী,বিশেষ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের সোনাতলা হাওরে গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের আঘাতে গরু রাখাল আব্দুল মন্নান নিহত হয়েছেন। নিহত আব্দুল মন্নান (৬৫) গরু রাখাল ওই ইউপির কালিয়ারভাঙ্গা (উত্তর পাড়া) গ্রামের মৃত রফিক উল্লার ছেলে।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিয়ার ভাঙ্গা ইউনিয়নের কালিয়ারভাঙ্গা (উত্তর পাড়া) গ্রামের আব্দুল মন্নান প্রায় ১২ বছর যাবৎ পার্শ্ববর্তী কালিয়ারভাঙ্গা (দক্ষিন পাড়া) গ্রামের এখলাছ মিয়ার বাড়িতে গরু রাখালের কাজ করে আসছেন। সোমবার (২৮ নভেম্বর) প্রতিদিনের ন্যায় গরু নিয়ে সোনাতলা হাওরে যান। এ সময় একটি গরু একই ইউপির টুকচানপুর গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে সামছুদ্দিনের জমির হালি ছাড়া ক্ষেতে গিয়ে পড়ে। এ নিয়ে সামছুদ্দিনের ভাই ইদু মিয়া ও আব্দুল মন্নানের মধ্যে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ইদু মিয়াসহ ২/৩ জন লোক আব্দুল মন্নানের উপর হামলা চালায়। এতে আব্দুল মন্নান রক্তাত্ব জখম হলে তারা বিদ্যুতের কুটির সাথে মন্নানকে বেধেঁ রাখে। এ সময় গরুর মালিকের ছেলে শ্রাবন মিয়া হাওরে গেলে তাদের বাড়ির রাখাল আব্দুল মন্নানকে রক্তাত্ব জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকালে আব্দুল মন্নান মৃত্যুর খোলে ঢলে পড়েন। এ খবর এলাকায় পৌছলে গ্রামবাসীর মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এছাড়া হবিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ মৃতের ছুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ আব্দুল মন্নানের শরীরে একাধিক জখম রয়েছে। ইদু মিয়াসহ ২/৩ জন মিলে মন্নানকে আঘাত করে হত্যা করেছে।
অপর একটি সুত্রে জানা গেছে, ইদু মিয়া বাক প্রতিবন্ধি। সে সরকারী প্রতিবন্ধি ভাতা ভোগ করে আসছে। অপর একটি সুত্রে দাবী করেছে, ইদু মিয়া ও আব্দুল মন্নান উভয়ই প্রতিবন্ধি। ওরা একে অপরের মধ্যে গরুর গোবর নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ইদু মিয়া লাটি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে মন্নানের মৃত্যু ঘটে। তবে আব্দুল মন্নানের স্বজনরা তা মানতে নারাজ। তাদের দাবী ইদু মিয়া একা একাধিক আঘাত করে আহতাবস্থায় মন্নানকে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেধেঁ রাখতে পারে না। হত্যাকারীরা নিজেকে আড়াল করার জন্য প্রতিবন্ধি ইদু মিয়ার ঘাড়ে একক ভাবে চাপানোর অপচেষ্টা করছে। তারা আইনের আশ্রয় নিবেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমদ জানান, এলাকার লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে শুনেছি যিনি আঘাত করেছেন তিনিও প্রতিবন্ধি এবং যিনি মারা গেছেন তিনিও প্রতিবন্ধি। তবে অভিযোগ দিলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।