গার্মেন্টসে নিহতদের ডিএনএ টেস্টে ১৫৭ জন সনাক্ত

    0
    624

    আমার সিলেট  24 ডটকম,০৩নভেম্বরঃ ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে১৫৭ পরিবারের আক্ষেপের অবসান হলো দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর। সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহতের মধ্যে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা বেশিরভাগ ১৫৭ শ্রমিকের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে । আজ রবিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। রানা প্লাজায় নিহতদের লাশের ৩২২টি নমুনার শনাক্তকরণ কাজ চলছে ল্যাবরেটরীতে। বাকি ১৬৫ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ঢাকা মেডিক্যালের ডিএনএ ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক শরীফ আখতারুজ্জামান ও শ্রম সচিব মিকাইল শিপার এ তথ্য জানান। তাঁরা আরও জানান, শনাক্ত হওয়া শ্রমিকের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুলে লাশ দাফন করা এবং নমুনার সমস্যার কারণে ১৬৫ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে এ নমুনাগুলো শনাক্তকরণের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
    জাতীয় ফরেনসিক গবেষণাগারের কারিগরী উপদেষ্টা ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরীর প্রধান শরীফ আখরারুজ্জামান বলেন, আজ সকাল ১১টার দিকে ১৫৭ জনের পরিচয় শনাক্তকরণ সংক্রান্ত  প্রতিবেদন মন্ত্রনালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। ভুল করে নমুনা দেওয়া এবং নমুনার নানা সমস্যার কারণে ১৬৫ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে বাকি নমুনা শনাক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
    ১৫৭ জনের পরিচয় শনাক্তরণ প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টিও জানানো হবে।
    জুরাইনের করস্থানে বেওয়ারিশ ব্যক্তিদের কবরে নম্বর দেওয়া আছে। সে অনুযায়ী পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের জানানো হবে বলে ও জানা যায়। মৃতদেহের হাড়, দাঁত বা মাংসপেশীর  টিস্যুর নমুনা বিশ্লেষণ করে ডিএনএ প্রোফাইল এবং সফটওযারের মাধ্যমে মেলানো হয়েছে।  প্রথম ধাপের প্রতিবেদনের পরও বাকিগুলো নিয়ে একইভাবে কাজ করা হবে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনসে আগুনে পুড়ে মরা শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে পরিচয় পাওয়া যায়নি ৬৯ জনের। এখন তাদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও শেষ পর্যায়।
    সংশ্লিষ্টদের মতে,রানা প্লাজা ভবন ধসে নিহতদের মধ্যে ৩২২টি লাশের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দাঁত ও হাড় দেওয়া হয়েছে ল্যাবরেটরিতে। আর মা-বাবা অথবা ভাই-বোন দাবি করে রক্ত নমুনা দিয়েছেন ৫৫৫ জন। সম্প্রতি আমেরিকা থেকে এফবিআইর সহায়তায় সফটওয়্যার পেয়ে দ্রুত সময়ে এ কাজ শেষে করেছে ল্যাবের কর্মকর্তারা।
    উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজায় নিহত এক হাজার ১৩২জনের মধ্যে ২৯১ জনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে। স্বজনরা ভুল করে নিয়ে দাফন করেছেন ১০জনের লাশ। ঢাকা জেলা প্রশাসন ৩২৯ নিখোঁজের তালিকা করেছে। এখনো স্বজনের খোঁজে সাভারে ঘুরে ফিরছেন শত শত মানুষ। কোনো প্রকার সহযোগীতা না পাওয়া এবং স্বজনদের লাশ পরিচয়ের স্বীকৃতি না পাওয়ার আশঙ্কায় কেঁদে ফিরছেন স্বজনরা। সুত্র,কালের কণ্ঠ।