গোলাম আযম সমাহিতঃবিএনপির শীর্ষ কাউকে দেখা যায়নি!

    0
    198

    আমারসিলেট24ডটকম,২৫অক্টোবরঃ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক জানায়নি বিএনপি। মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযমের জানাজায়ও বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি। তবে বিএনপির কিছু নেতা ব্যক্তিগতভাবে এই মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন।
    মৃত্যুর পর জামায়াতের সাবেক আমিরের মরদেহ তার মগবাজারের বাসায় রাখা। সেখানে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাখা হয়। সেখানে  জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার মরদেহ দেখতে যায়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের কয়েকটি শরিক দলের শীর্ষ নেতারাও ছিলেন। তবে কোনো বিএনপির বড় কোন নেতাকে দেখা যায়নি বলে অনেকের অভিযোগ।

    জানা যায় বিএনপির শরিক দলের নেতাদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তজা, নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিন উপস্থিত ছিলেন।
    অপরদিকে জোটের অন্যমত মিত্র জামায়াতের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শোক জানায়নি বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
    জানা যায়,গুশলানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল ইসলাম বলেন, “এটা আজকের সংবাদ সম্মেলনের বিষয় না। যে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে তা সবই বলেছি।”

    এর আগে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গোলাম আজমের মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে সমবেদনা জানান।

    গোলাম আজমের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানি না, তবে গোলাম আযমের মৃত্যুতে আমি তার পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।” দলের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকও ব্যক্তিগতভাবে শোক জানিয়েছেন।

    জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং ভাষাসৈনিক হিসেবে গোলাম আযমের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে।”

    এদিকে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাভিত্তিক ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতারা গোলাম আযমের মৃত্যুতে বিবৃতি, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগ সাইটে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। যদিও জামায়াতের সঙ্গে তাদের রয়েছে আদর্শিক বিরোধ।
    তবে আরও জানা জায় যে, বাংলাদেশের  ইসলামী ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে সুন্নি আকায়েদ পন্থী কোন দলের নেতা কর্মীদের থেকে গোলাম আযমের মৃত্যুতে কোন প্রকার  বিবৃতি, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগ সাইটে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ও কোন শোক প্রকাশ করেনি। একটি সুত্র থেকে জানা যায় জামায়াতের সঙ্গে তাদের রয়েছে আদর্শিক ও আকায়েদী মতবিরোধ।
    অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের গোলাম আযমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের দল খেলাফত মজলিসও শোকাহত।

    গোলাম আযমের মাগফেরাত কামনা করে শোক দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। শুক্রবার দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মহিউদ্দীন ইকরাম শোক জানান।
    শুক্রবার সকালে রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ফেসবুকে মুফতি ফজলুল হক আমিনী প্রতিষ্ঠিত খেলাফতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ।

    বিবৃতি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন ২০ দলীয় জোটের নেতা ও বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী। ইসলামিক পার্টির অন্য অংশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমএ রশিদ প্রধানও গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে শনিবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গোলাম আযমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াত শিবির ও ২০দলের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। কিন্তু এখানেও বিএনপির শীর্ষ কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।

    জানাজায় বিএফইউজের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক ছাড়া বিএনপির কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। তবে জানাজায় বিএনপির অনেক কর্মী  অংশ নেয় বলে জানা গেছে।

    উল্লেখ্য,মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমকে আজ শনিবার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে মগবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবা আর ভাইয়ের কবরের মাঝখানে তাকে সমাহিত করা হয়।
    এর আগে সরকারপন্থি কয়েকটি সংগঠনের বিরোধিতার মুখে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররমে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার চতুর্থ ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী জানাজায় ইমামতি করেন।
    জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াত নেতারা জানাজায় শরিক হন।