গ্যাংরিন আক্রান্ত পিতা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়েঃবরাদ্ধ নেই

    0
    466

    “অভাবের সংসারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়েটিকে নিয়ে তিনি সহ তার স্ত্রী গত কয়েক বৎসর থেকে প্রতিবন্ধি ভাতার জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরে গিয়ে যোগাযোগ করেও কোন ভাতার ব্যবস্থা করতে পারেনি”

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬মার্চ,রেজওয়ান করিম সাব্বির:জৈন্তাপুরে গ্যাংরিন আক্রান্ত পিতা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন হতে মিলছেনা কোন বরাদ্ধ কিংবা ভাতা। অপরদিকে অনিবন্ধিত সংস্থার বই প্রকাশের জন্য লক্ষ টাকা বরাদ্ধ।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়- উপজেলা কমপেক্সের পার্শ্বের গ্রাম যশপুর। গ্রামের দিন মজুর রিক্সা চালক লিটন মিয়া ভাঙ্গা টিনের ছাউনি ও ইকড়ের বেড়ার ঘরে রিক্সা চালিয়ে মা, স্ত্রী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়ে সহ ৩সন্তান নিয়ে জীবন যাপন করে আসছে।

    গত ১বৎসর পূর্বে হঠাৎ করে লিটন মিয়া গ্যাংরিন রোগের কাছে তার জীবন সংগ্রাম বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিবারে নেমে আসে হতাশার ছায়া। গ্যাংরিন রোগের কাছে পরাস্থ হয়ে লিটন মিয়া অভাবের সংসারে রিক্সা চালিয়ে যা জমিয়েছিলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তা ব্যয় করে ফেলেছেন। পরিশেষে রোজগারের একমাত্র উৎস রিক্সাটি বিক্রয় করে দীর্ঘ ১বৎসর ধরে চিকিৎসা সেবা করে যাচ্ছেন। উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ভিত্রিখেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ঘুরার উদ্দ্যেশে যশপুর গ্রামে গেলে দৃষ্টি গোচর হয় লিটনের দিকে।

    তিনি লিটনের অবস্থা দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে সাহায্যের হাত বাড়তে সমাজের বৃত্তবানদের আহবান জানান। শিক্ষক লিখা ষ্ট্যাটাসটি পড়ে ও ছবি দেখে যশপুর গ্রামে গিয়ে লিটন মিয়ার সাথে আলাপকালে জানা যায় অনেক অজানা কাহিনী। বেরিয়ে আসে আমাদের সমাজের ও প্রশাসনের অনেক না জানা তথ্য। লিটন মিয়া বলে- অভাবের সংসারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়েটিকে নিয়ে তিনি সহ তার স্ত্রী গত কয়েক বৎসর থেকে প্রতিবন্ধি ভাতার জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরে গিয়ে যোগাযোগ করেও কোন ভাতার ব্যবস্থা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গত ১বৎসর থেকে গ্যাংরিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থঅভাবে অর্ধাহারে অনাহারে দিননানিপাত করছেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী ও ১১বৎসরের মেয়ে মানুষের বাসাতে কাজ কর্ম করে ৬সদস্যের পরিবার জোড়া তালি দিয়ে চলছে।

    এদিকে লক্ষাধিক টাকার অভাবে লিটন সুস্থ হতে পারছেন না। অপরদিকে আমাদের প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন একটি পরিবারের কাহিনী নানা ভাবে জেনেও না জানার ভান করে চিকিৎসার জন্য কোন বরাদ্ধ বা সাহায্য দিচ্ছে না। তারা একটি আনরেজিষ্ঠার্ড সংস্থাকে বই প্রকাশনার নামে লক্ষ বরাদ্ধ দিচ্ছে।

    আমাদের বিবেকমান সমাজপ্রতি, বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি সহ সর্বস্থরের আপমর জনসাধারনের একটু সহযোগীতার হাত বাড়ালে রিক্সা চালক লিটন মিয়া সুস্থ্য জীবনে ফিরে আসতে পারত। প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়েটি কে ভাতার ব্যবস্থা সহ গ্যাংরিন রোগে আক্রান্ত লিটনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানায় সচেতন মহল।