গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন:এনডিএফ

    0
    235

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,ফেব্রুয়ারী জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ এর ২৭-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সরকারের গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেন চাল, ডাল, তেল, লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিষপত্রের উর্ধ্বগতির এসময়ে দেশের শ্রমজীবী মানুষের উপর ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে আসছে গ্যাসের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির সরকারি ঘোষণা। গ্যাস খাতে সরকার লাভজনক অবস্থায় থাকলেও সাম্রাজ্যবাদী প্রভূর স্বার্থে আইএমএফের নির্দেশে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলে মূল্য রেকর্ড পরিমাণ কমে প্রতি ব্যারেলের মূল্য ৪৭ ডলারের নিচে নেমে গেলেও আমাদের দেশে মূল্য না কমানো কথা ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে যেমন বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়াসহ সকল নিত্যপণ্যে মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়বে, তেমনি সরকারের নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সাথে সাথেই আবারও সকল ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধি ঘটবে। তাই আগামীতে দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধির কষাঘাতে জর্জরিত হবে মেহনতি জনতা।

    সংগঠনের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনডিএএফ জেলা কমিটির অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক। সভায় বক্তব্য রাখেন এনডিএফ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক সোহেল আহমেদ, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন জেলা কমিটির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ জসিমউদ্দিন, রিকশা শ্রমিক সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক কিসমত মিয়া, আব্দুল আজিজ, তাজুল ইসলাম প্রমূখ।

    সভায় বক্তারা আরও বলেন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের শোষণ-শাসনে শৃঙ্খলিত জনগণ আজ গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। জনগণ এই দুঃসহ শোষণ-লুন্ঠন ও নৈরাজ্যিক অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। দেশ আজ এক গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক তথা সামগ্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। শ্রমিক-কৃষক-জনগণ সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল এদেশীয় শাসক-শোষক গোষ্ঠীর তীব্রতর শোষণ-লুন্ঠন, নির্যাতন এবং ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী মহাজোট সরকারের দুঃশাসনে পিষ্ট হচ্ছে জনজীবন। সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় ক্ষমতা ও গদি নিয়ে সাম্রাজ্যবাদের দালাল দলগুলোর মধ্যে কামড়াকামড়ি, খেয়োখেয়ি, সংঘাত-সংঘর্ষ। আর এর ফলে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে নিরিহ জনগণ, শ্রমিক হারাচ্ছে জীবন-জীবিকা, কৃষক হারাচ্ছে তার উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম মূল্য। প্রভূ সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন মহজোট সরকার যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে।

    আবার বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উভয় জোটই শ্রমিক-কৃষক-জনগণের জীবন-জীবিকা ও জাতীয় জীবনের মূল সমস্যা আড়াল করে তাদের হীন শ্রেণীস্বার্থ চরিতার্থ করে যাচ্ছে। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বপুর্ণ বাংলাদেশকে নিয়ে সা¤্রাজ্যবাদী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হয়ে চলছে। বাজার ও প্রভাববলয় পূণর্বন্টনকে কেন্দ্র করে সা¤্রাজ্যবাদী দেশগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও শক্তি সম্পর্কে পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের রাজনীতিতে। তাই জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে তিন শত্রু সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালালপুঁিজ এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারী স্বৈরাচারী সরকার ও রাষ্ট্রকে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন সাধন করে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই আসুন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল এবং স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী সকল সংগঠন, শক্তি ও ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দূর্বার আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হই।