গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত

    0
    280

    আমারসিলেট 24ডটকম,০৩অক্টোবর:গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের উপর আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তৃত্ব বাড়িয়ে গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূইঞা। মোশাররাফ জানান, এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই আইন পাস করা হবে বলেও তিনি জানান।
    সচিব সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এই আইনের কারনে গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে চলে যায়নি। এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংক শুধু সরকারকেই নয় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও প্রতিবেদন দাখিল করবে। এছাড়া অধ্যাদেশে যা ছিল, আইনেও তা থাকবে ও বলে জানান তিনি।এর আগে নতুন বিষয় যুক্ত করে গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর খসড়া চুড়ান্ত করে এই আইনের খসড়া উপস্থাপন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। নতুন আইনে ২৫ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ গ্রামীণ ব্যাংকের হাতে রাখার কথা বলা হয়েছে। আয় কর অব্যাহতি দেয়া হবে নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য।
    খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে একটি বাছাই কমিটি করা হবে। বাছাই কমিটি এমডি প্রার্থীর নাম পাঠাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে নিয়োগ করবে এমডি।
    সূত্র মতে  জানা গেছে, প্রস্তাবিত গ্রামীণ ব্যাংক কোম্পানি আইনে দেশে কার্যরত অন্য ব্যাংকের মতোই। গ্রামীণ ব্যাংককেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জবাবদিহি করার বিধান রাখা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে এ দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও এই আইন অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর প্রয়োগও করতে পারবে।
    তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে এত ক্ষমতা দিলেও গ্রামীণ ব্যাংকের আইন সম্পর্কিত কার্যাবলী সরকার নিজের অধীনেই রেখে দিচ্ছে। অর্থাত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক হলেও বিধিমালা, আইন সংশোধন বা সংযোজনের জন্য সরকারের দ্বারস্থ হতে হবে। এ কাজটি আগে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড করত। এখন থেকে এটি অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ করবে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কিছু বিষয়ে সরকারের কর্তৃত্ব বহাল রাখা হবে। এর মাধ্যমে মূলত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে থেকে জানা গেছে।