গ্রেপ্তার হলে গুলশান কার্যালয়কে সাব জেল চায়

    0
    220

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৭ফেব্রুয়ারীঃ যে কোনো পরিস্থিতি বা পরিণতির জন্যই প্রস্তুত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গ্রেফতার কিংবা কারাবরণ- কোনো কিছুই আমলে নিচ্ছেন না বিএনপিপ্রধান। আন্দোলন প্রশ্নে এখনো অনড় তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে আবারও দাবি করেছেন তিনি। এ মামলায় গ্রেফতার কিংবা সাজা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তারপরও গ্রেফতারের খড়গ নেমে এলে পরিণতি মেনে নেবেন তিনি। তাই গ্রেফতার হওয়ার আগে নিজের যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন বলেও ২০-দলীয় জোটের এই নেত্রী দলের সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে রেখেছেন। বিএনপি দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর লন্ডনে অবস্থান নেওয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কয়েক দফা কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন তিনি। সারা দেশের সাংগঠনিক সব ইউনিটের নেতাদের সঙ্গেও ফোনে কথা বলার নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া আইনি পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তাও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় সংশ্লিষ্টদের। এর পর থেকে দুই দিন ধরে দেশের সব জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন নজরুল ইসলাম খান। খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে- এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যেহেতু দুর্নীতির দুই মামলায় খালেদা জিয়া জড়িত নন, তাই মানসিকভাবে তিনি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। সাধারণত কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েন, কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষেত্রে সেরকম মনে হয়নি। বেগম জিয়া সত্যের ওপর অটল আছেন। মানসিকভাবে চেয়ারপারসন অনেক শক্ত।’ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারের আশঙ্কায় বেগম জিয়া ব্যক্তিগতভাবে ওষুধপত্র ও পোশাক-পরিচ্ছদ আলাদাভাবে গুছিয়ে রেখেছেন। গ্রেফতার হলে দল কীভাবে চলবে, কারা নেতৃত্বে থাকবেন তাও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য দলের ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখতে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সূত্রমতে, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলে গুলশান কার্যালয়কেই যেন সাব জেল হিসেবে ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র নেতারা একমত পোষণ করেছেন। এ নিয়ে সরকার কিংবা উচ্চ আদালতেও যেতে প্রস্তুত তারা। বেগম জিয়ার শরীরের কথা চিন্তা করেই এ সিদ্ধান্ত নেন বিএনপি নেতারা। গত বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান টিএইচ খানের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের সিনিয়র বেশ কয়েকজন আইনজীবী খালেদার গ্রেফতার-পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় প্রভাবশালী এক আইনজীবী অভিমত দেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে যেন গুলশান কার্যালয়কে সাব-জেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে তারা সরকার কিংবা উচ্চ আদালতেও যেতে আগ্রহী। সংশ্লিষ্ট সবাই ওই মতের সঙ্গে একমত হন বলে জানা যায়। ৩ জানুয়ারি থেকে নিজ কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ দিন কাটাচ্ছেন খালেদা জিয়া। প্রতিনিয়ত একের পর এক প্রতিবন্ধকতাও তাকে তাড়া করছে। প্রতিদিনই তিনি শুনতে পাচ্ছেন মামলা-হামলাসহ গুম-খুনের মতো দুঃসংবাদ। এমন প্রতিকূল সময়ে ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন তিনি। নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ ‘কার্যত’ বিচ্ছিন্ন। এত কিছুর পরও আন্দোলনের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নড়েননি খালেদা জিয়া।নেতা-কর্মীদের নির্ঘুম রাত : খালেদা জিয়া গ্রেফতার হচ্ছেন- এমন গুজবে গত দুই রাত নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর বুধবার রাতে ঢাকাসহ সারা দেশের নেতা-কর্মীরা রাতভর ছিলেন টিভির সামনে। একইভাবে গুলশান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কিংবা গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতা।সতর্ক তারেক রহমান : জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে সতর্ক রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের সংশ্লিষ্টদের কাছে গ্রেফতার-পরবর্তী করণীয় নিয়েও আলোচনা করছেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার পরামর্শও দিচ্ছেন তিনি। চেয়ারপারসনের সঙ্গেও গত দুই দিনে কয়েক দফা কথা বলেন তারেক রহমান।বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, ‘ম্যাডাম মানসিকভাবে অনেক শক্ত রয়েছেন। মামলা-কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আমরা কথা বলছি।’পরোয়ানা থানায় পৌঁছায়নি : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনো থানায় পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছানোর পর আদালত কী নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) আনিসুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা এখনো আদালত থেকে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা পাইনি। পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে বুধবার সকালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থাপিত ঢাকা-৩ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ আদেশ দেন। এ ছাড়া মামলার অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।ওই দিন বিকালে খালেদার গ্রেফতারি পরোয়ানা গুলশান ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় পৌঁছায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ওই আদালতের পেশকার আরিফ হোসেন বুধবার বিকাল সোয়া ৪টায় খালেদা জিয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানা গুলশান থানায় পৌঁছে দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছিলেন।বুকে-পিঠে স্লোগান লেখা যুবক গ্রেফতার : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে দেলোয়ার হোসেন নূরু (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার বুকে লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ এবং পিঠে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। আর মুখে স্লোগান ছিল- ‘শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা এক হও, লড়াই করো’। আর হাতে ছিল- কাগজে লেখা স্বরচিত কবিতা।সূত্রঃবাংলাদেশ প্রতিদিন।