চট্টগ্রাম বিএনপির সাংসদ সাকা চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ

    0
    292

    আমারসিলেট 24ডটকম,০১অক্টোবর : মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চট্টগ্রামে হিন্দু ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক নিধনে অংশ নেয়া এবং নির্জাতন কেন্দ্র চালানোর অপরাধে তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে বিএনপির সাংসদ সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।গণহত্যায় অংশ নেয়া ছাড়াও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চট্টগ্রামে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, হিন্দু বাড়ি দখল, হিন্দুদের দেশান্তরে বাধ্য করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীই হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি সাংসদ থাকা অবস্থায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডাদেশ পেলেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর আজ মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।বিচারপতি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি ঘটনায় সা কা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের জন্য আদালতের রায়ে “অভিযুক্ত” বিএনপির এই নেতাকে আমৃত্যু ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকার করার নির্দেশ দেন বিচারক।

    ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা ১৭২ পৃষ্ঠার রায়ের রায়ের প্রথম দুটি অংশ পড়ে শোনান।মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন কাদের কীভাবে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে নিয়ে হত্যা, লুটপাট চালিয়েছেন, কীভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ধরে এনে নিজের গুড হিলের বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছেন তার বিশদ বিবরণ উঠে এসেছে এই রায়ে।

    বিভিন্ন সময়ে অশালীন ও বিতর্কিত মন্তব্য করে ও সংবাদ শিরোনামে থাকা সাকা চৌধুরী এই বিচার চলাকালেও নানা নাটকীয়তার জন্ম দেন বলে জানা যায় ।দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য, আইনজীবীর বদলে নিজেই মামলা পরিচালনা, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী হাতে জবানবন্দি দিতে দাঁড়ানো, বিচারকের প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়াসহ বহু ঘটনার জন্ম দেন তিনি বিচারককক্ষে বসে।তার রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের বাইরে অপেক্ষমাণ মুক্তিযোদ্ধা, রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে উপস্থিত জনতা এবং আসামির জেলা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করে।

    অপরাধ সংঘটনের চার দশকেরও বেশি সময় পরে পাওয়া এই বিচারের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে আপিল করার কথা জানিয়েছেন সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী।একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি সপ্তম রায়। আগের ছয়টি রায়ে জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান ছয় নেতাকে দণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

    আগের রায়গুলোর দিন বিচার প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে হরতাল ডাকা হলেও এবার রায়ের আগ পর্যন্ত বিএনপি নেতারা ছিলেন ক্যার্যত নিশ্চুপ।আগের রায়গুলোর সময় জামায়াতের সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সোমবার থেকেই ট্রাইব্যুনাল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন।

    এছাড়া সাকা চৌধুরীর বাড়ি ও নির্বাচনী আসনসহ চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলায় মোতায়েন করা হয় বিজিবি।সকালে  ট্রাইব্যুনালে আসা সাংবাদিক ও দর্শনার্থীদের বরাবরের মতোই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তল্লাশি করে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।সাকা চৌধুরীকে আগের দিনই কামিশপুর কারাগার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে করে। আগের রায়ের দিনগুলোর মতো আজ ও সকাল থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে মিছিল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের ট্রাইব্যুনালের বাইরে জড়ো হয় ।তারা বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করারও দাবি জানান।