চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের সবগুলো আসর

    0
    274

    আমারসিলেট24ডটকম,১২জুনঃ দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফাবিশ্বকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতি ৪ বছর অন্তরনিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কখনও আমেরিকায়, কখনও ইউরোপে, কখনও আফ্রিকায়, কখনও এশিয়ায় বসেছে এ আসর। শুধুমাত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর কারণে ১৯৪২ এবং১৯৪৬ এই ২টি বিশ্বকাপের আসর বসেনি। প্রত্যেক আসরেই কে হবে চ্যাম্পিয়ন- এনিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে চলে মাতম।

    ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলেচ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক উরুগুয়ে। এবং দ্বিতীয় বিশ্বকাপও ১৯৩৪ সালেও এই একইঘটনা ঘটিয়ে বসে স্বাগতিক দেশ ইতালি। এর পরই ঘটনা চলতে থাকে ভিন্ন খাতেঅর্থাৎ নিজেদের মাঠে নিজেদের দেশের সাপোর্ট বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকাসত্ত্বের কিন্তু এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি বিশ্বকাপের মধ্যে মাত্র ৬ বার কাপজিতেছে স্বাগতিকরা।
    পক্ষান্তরে ১১ বারই কিন্তু অন্য দেশ কাপ নিয়ে গেছেস্বাগতিকদের কাছ থেকে। যে ৬টি দেশে স্বাগতিক হিসাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারাহলো- ১৯৩০-এ উরুগুয়ে, ১৯৩৪-এ ইতালি, ১৯৬৬-তে ইংল্যান্ড, ১৯৭৪-এ পশ্চিমজার্মানি, ১৯৭৮-এ আর্জেন্টিনা এবং ১৯৯৮-তে ফ্রান্স।

    ১৯৩০ বিশ্বকাপ
    ১৯৩০ফিফা বিশ্বকাপ ছিল প্রথম অনুষ্ঠিত কোনো ফুটবল বিশ্বকাপ। ১৩ থেকে ৩০ জুলাইপর্যন্ত এটি উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়। ফিফা ১৯২৯ সালের বার্সেলোনা সেমিনারেউরুগুয়েকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়। কেননা- সে বছর উরুগুয়েরস্বাধীনতার শতবর্ষে পা দিয়েছিল এবং উরুগুয়ে ফুটবল দল সফলভাবে ১৯২৮ গ্রীষ্মঅলিম্পিকে ফুটবল শিরোপা জিতেছিল।
    ১৩টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। এরমধ্যে আমেরিকা অঞ্চলের ৯টি ও ইউরোপের ৪টি দল ছিল। ভ্রমণের খরচ ও সময়বিবেচনা করে অনেক ইউরোপীয় দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ যুগপৎভাবে অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্স ও মেক্সিকোরমধ্যে। যেখানে ৪-১ গোলে ফ্রান্স জয়ী হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামেরম্যাচে ৩-০ গোলে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়। বিশ্বকাপের প্রথম গোল করেন ফ্রান্সেরলুসিয়েন লরেন্ত। ফাইনালে উঠে যায় প্রতিযোগিতার ফেবারিট উরুগুয়ে ওআর্জেন্টিনা এবং ৯৩ হাজার দর্শকের সামনে উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলেপরাজিত করে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা লাভের গৌরব অর্জন করে।

    ১৯৩৪ বিশ্বকাপ
    ইতালিতেঅনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু ছিল রোমের পিএনএফস্টেডিয়াম। পঞ্চান্ন হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ইতালি ২-১ ব্যবধানে পরাজিতকরে চেকোশ্লোভাকিয়াকে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত আসরে উরুগুয়েতে খেলতে যায়নিইতালি। প্রতিবাদস্বরূপ ইতালির আসরে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় উরুগুয়ে। দ্বিতীয়আসর অনুষ্ঠানের সময়টাতে ৫০টি দেশ ফিফার সদস্যপদ লাভ করে। ফলে বাছাইপর্বেরআয়োজন করতে হয়। মূল পর্ব শুরু হওয়ার ৩ দিন পূর্ব পর্যন্ত চলে বাছাইপর্বেরম্যাচ।
    নির্ধারিত সময়ে ফাইনাল ম্যাচ অমীমাংসিত থাকার পর খেলা গড়ায়অতিরিক্ত সময়ে। নির্ধারিত সময়ের ৮ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় চেকোশ্লোভাকিয়া।ম্যাচের ৭০ মিনিটে গোলটি পরিশোধ করেন আর্জেন্টিনায় জন্ম নেয়া ইতালিয়ানখেলোয়াড় রাইমুন্ডো অরসি। অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল করে দলকে দ্বিতীয় আসরেরশিরোপা পাইয়ে দেন এঞ্জেলো শিয়াভিও।

    ১৯৩৮ বিশ্বকাপ
    বিগতশতাব্দীর তৃতীয় বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন খেতাব পায় ফ্রান্স। আর রানার্স আপ হয়ইটালি। খেলা অনুষ্ঠিত হয় মোট ১৮টি। মোট গোলের সংখ্যা ৮৪টি এবং ব্যক্তিগত৮টি গোলের রেকর্ড হয় ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে। ১৫টি দেশ এ বিশ্বকাপে অংশ নেয়।দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কারণে ১৯৩৮ সালের ১২ বছর পর অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপেরপরবর্তী আসর।

    ১৯৫০ বিশ্বকাপ
    ১৯৫০ বিশ্বকাপ থেকে বিশ্বকাপট্রফির নাম বদল হয় ‘জুলেরিমে কাপ’। এ বিশ্বকাপটির বিশেষত্ত্ব ছিল এটুর্নামেন্টে অংশ নিতে পৃথিবীর সব দেশের জন্যই উন্মুক্ত ছিল। এর কারণদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ১৯৩৮ সালের পর ১২ বছর আয়োজন করা সম্ভব হয়নিবিশ্বকাপের আসর। ফলে ১৯৫০ সালের আসরে ফিফা দলই খুঁজে পাচ্ছিলনা। এবিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ব্রাজিল। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে খেলতে সুযোগ পেয়েব্রাজিল পর্যন্ত গিয়েছিল ভারতও। কিন্তু খালি পায়ে খেলার আবদার তোলায় ভারতেরআর বিশ্বকাপ খেলা হয়নি।
    ওই বিশ্বকাপ আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল এযে, কোন সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালের ব্যবস্থা ছিল না। ৪ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ৪দল অংশ নেবে ফাইনাল রাউন্ড। এ রাউন্ডের প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথেমুখোমুখি হবে একবার করে। অর্থাৎ সবার জন্য সমান ৩ ম্যাচ খেলার সুযোগ। এই ৩ম্যাচের পয়েন্টের ভিত্তিতেই হবে যথাক্রমে চ্যাম্পিয়ান, রানার্সআপ, তৃতীয় ওচতুর্থ।
    ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, মোট ১৩টি দল অংশ নেয়; মোট ম্যাচ ২২টি, গোলের সংখ্যা ছিল ৮৮টি; ৭ গোল আদোমিয় (ব্রাজিল)। এবিশ্বকাপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনাটি হলো- উরুগুয়ের কাছেঅপ্রত্যাশিতভাবে ব্রাজিল হেরে যাওয়ায় হার্ট এটাক করে মৃত্যু হয়েছিল শতাধিকব্রাজিলিয়ানের।

    ১৯৫৪ বিশ্বকাপ
    ১৯৫৪ সালে পঞ্চম বিশ্বকাপফুটবলের আয়োজন করে সুইজারল্যান্ড। এ বছর ১৬টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ গ্রহনকরে। ১৬টি দল ৪টি গ্রুপে খেলে। এ বিশ্বকাপে কোয়াটার ফাইনালেব্রাজিল-হাঙ্গেরীর খেলাটি শারীরিক শক্তি প্রয়োগের এক বীভৎস রূপ লাভ করায় ‘বর্ণের যুদ্ধ’ হিসাবে কুখ্যাত হয়ে আছে। খেলাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারিকে৩টি লাল কার্ড ও ২টি পেনাল্টি দিতে হয়। খেলার পরও নাকি দুদলের খেলোয়াড়রামারামারি করেছেন।
    ফাইনালে হাঙ্গেরিকে সম্পূর্ন নতুন এক জার্মান দলেরমুখোমুখি হতে হয়। অসুস্থতা সত্ত্বেও পুসকাস এদিন মাঠে নামেন। ফাইনালেরপ্রথম ৮ মিনিটের মধ্যেই হাঙ্গেরির পুসকাস ও বিজরের গোলে ২-০তে এগিয়ে যেতেসর্মথ হয়েছিল। কিন্তু জার্মানরাও অন্য এক ম্যাচ খেলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ জিতে এবিশ্বকাপটি। হাঙ্গেরির বিস্ময় পুসকাস ১১টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতাকৃতিত্ব দেখান।

    ১৯৬৬ বিশ্বকাপ
    দীর্ঘ ৩২ বছর পর ১৯৩৪সালের পর স্বাগতিক দেশ হিসেবে কাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখায় ইংল্যান্ড। ১৯৩৪ সালেইতালি এর আগে দেশের মাটিতে কাপ জয়ের অনন্য কৃতিত্ত দেখিয়েছিল। ১৯৬৬ সালেইংল্যান্ড প্রথমবারের মতো জুলেরিমে ট্রফি আয়োজনের দায়িত্ব পায়। এবারোব্রাজিল ছিল টপ ফেবারিট। তবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল, ঠেকাও আন্দোলন বেশ জোরদারছিল। পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টেকানোর জন্য সব দলই উঠে পড়ে লাগেবিশেষ করে পেলেকে আটকে দেয়ার পরিকল্পনা চলতে থাকে। প্রথম খেলাতেইবুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে আহত হতে হয় পেলেকে। গ্রুপের শেষ খেলায় পুর্তগাল আবারোপেলেকে আহত করে। রেফারি তা এড়িয়ে যায়। ফলে ব্রাজিল এই প্রথম পরাজয়ের স্বাদপায়।
    অপর ফেবারিট পশ্চিম জার্মানী অবশ্য ফাইনাল পর্যন্ত ওঠে। ফাইনালেপশ্চিম জার্মানী ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলায় ২-২ গোলেসমতায় থাকে। ফলে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ইংল্যান্ডের থার্স্ট অতিরিক্তসময়ে ২টি গোল করে দেশকে শিরোপা পাইয়ে দেন। এ কিশ্বকাপে আরও মজার যেঘটনাগুলি ঘটে তা হলো- ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোলটি, গোল লাইন অতিক্রম না করলেওরেফারি গোল দিয়ে দেন। জার্মানীদের চাপের মুখে রেফারি মাথা নত করলেও ব্যাপকসমালোচিত হন তিনি।
    ফাইনাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে সূচিত হয় আরেক কলঙ্কময়অধ্যায়। উধাও হয়ে গেল ‘জুলেরিমে’ ট্রফি। সবকিছুতেই সমালোচনায় জর্জরিত হলোইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত পিকলস নামে একটি কুকুর সেই ‘জুলেরিমে’ কাপ উদ্ধারকরে নিয়ে আসে নরওয়ের একটি বাগান বাড়ি থেকে। পুর্তগালের ইউসেবিওপ্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড় হয়, তিনি মোট ৯টি গোল করেন।

    ১৯৭০ বিশ্বকাপ
    ১৯৭০সালের বিশ্বকাপের আসর বসেছিল মেক্সিকোতে। এ আসরে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন ওইটালি রানার্স- আপ হয়। এ আসরে নান্দনিক ফুটবলের জনক নামে খ্যাত ব্রাজিলঅনন্য এক রেকর্ড গড়ে। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল ১৯৭০ সালেরআসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে ৩ বার বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়ে একমাত্র দলহিসেবে সর্বোচ্চ ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে চিরতরে ‘জুলেরিমে’ ট্রফিচিরদিনের জন্য নিজের ঘরে তোলে ব্রাজিল। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের মূলতারকা ছিলেন পেলে ও প্যারিঞ্জা। পেলে-প্যারিঞ্জাদের নিয়ে গড়া ১৯৭০ আসরেরব্রাজিল দলের ছন্দময় ফুটবলপ্রেমী মুগ্ধ করে সবাইকে। ফাইনালে ইটালিকে ৪-১গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। পশ্চিম জার্মানির গার্ড মূলারসর্বোচ্চ ১০ গোল করে গোল্ডেনবুট পুরস্কার পান।
    এ আসরে ইংল্যান্ড দলেন্যাক্কারজনক এক ঘটনা ঘটে। মদ্যপান, চুরিও অশালীন আচরণের অভিযোগে ইংল্যান্ডতারকা ববি মুরকে গ্রেপ্তার করে মেক্সিকো পুলিশ। এ ছাড়াও ১৯৭০ বিশ্বকাপেরসবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও পুর্তগালের মতোবিশ্বসেরা দলগুলোর আসরে সুযোগ না পাওয়ার ঘটনা। বাছাই পর্ব থেকেই বাদ পড়েযায় এ সেরা ৪ দল। অন্যদিকে ১৯৭০ বিশ্বকাপ আসরে অভিষেক হয় ইসরাইলের।

    ১৯৭৪- ১০ম বিশ্বকাপ
    ৩বার বিশ্বকাপ জেতার ব্রাজিল চিরতরে ‘জুলেরিমে’ কাপ নিয়ে যাওয়ার ১০মবিশ্বকাপ আয়োজনের আগেই একটি নতুন কাপ তৈরির প্রয়োজন পড়ে। ফিফা একটি নতুনকাপ তৈরী করে। নতুন কাপের নামকরন করা হয় ‘ফিফা কাপ’। এ বছর কাপ বদলের সাথেসাথে ফিফার সভাপতিরও বদল হয়। স্যার স্ট্যানলি রাউসের ১৩ বছরের দায়িত্বপালনের পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ব্রাজিলের জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জ। এ সময় আরোএকটি সিদ্ধান্ত হয়- কোন দেশ ৩ বার বা তারও বেশি চ্যাম্পিয়ন হলেও কাপটিচিরতরে নিতে পারবে না।
    এ বিশ্বকাপে স্বাগতিক পশ্চিম জামার্নির সেরা বাজিহিসেবে খেলে। পশ্চিম জার্মানী ছাড়াও হল্যান্ড ও পোল্যান্ড নতুন শক্তিহিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। হল্যান্ডের কোচ রিনাস মিশেল ফুটবলের ইতিহাস ‘টোটালফুটবল’ নামক এক নতুন ধরনের খেলা উদ্ভাবন করে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেন।পুরো দলকেই একই সঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণ করার দূরুহ কাজটি অনুপম দক্ষতারসম্পন্ন করল দলটি।
    পশ্চিম জার্মানীর অধিনায়ক বেকেনবাওয়ার হল্যান্ডকেহারিয়ে প্রথম ফিফা কাপ জয়ের অনন্য কৃতিত্ব দেখান। সেই সাথে পশ্চিমজার্মানীর পরিচ্ছন্ন সুন্দর খেলার জন্য পায় ‘ফেয়ার প্লে’ ট্রফি। হল্যান্ডেরলটো ৭টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার খ্যাতি অর্জন করেন।

    ১৯৭৮ বিশ্বকাপ
    প্রথমবিশ্বকাপেই শিরোপার কাছে মাত্র এক ম্যাচের দূরত্বে চলে এসেছিলআর্জেন্টিনা। সেই একটি মাত্র ম্যাচের দূরত্ব ঘোচাতে লাগল ৪৮ বছর। ১৯৭৮ সালেনিজ দেশে অনুষ্ঠিত একাদশ বিশ্বকাপ পর শিরোপা জিতে দীর্ঘদিনের অতৃপ্তিঘোচায় আর্জেন্টিনা। সেই সাথে নিজেদের দাঁড় করায় ফুটবলের আরেক পরাশক্তিহিসেবে। এ বিশ্বকাপে নিয়ে আর্জেন্টাইনরাও অত বেশি আশাবাদি ছিল না। কারণ-তাদের প্রিয় খেলোয়াড় বিস্ময়বালক ডিয়োগো ম্যারাডোনাকে যে দলে নেননি কোচ লুইসিজার মেনেত্তি।
    বয়স কমের অজুহাতে ১৮ বছরের ম্যারাডোনাকে না নেয়াতেকোচের ওপর দারুণ খেপেছিল সমর্থকরা। বিশ্বকাপ জয় শেষে এই কোচই অবশ্য জাতীয়বীর। ম্যারাডোনা নেই, তাতে কি হয়েছে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ তো জিতেয়েছেনতিনি। ফাইনালে আর্জেন্টিনা নির্ধারিত সময়ে নেদারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলেঅমিমাংসিতভাবে খেলা শেষ করে। ফলে ম্যাচ চলে যায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্তসময়ে ক্যাম্পোসের আরেকটি গোলের সাথে সাথেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপাঘরে তোলে আর্জেন্টিনা।

    ১৯৮২ বিশ্বকাপ
    দ্বাদশ বিশ্বকাপআয়োজনের দায়িত্ব পায় স্পেন। জাঁকজমকপূর্ন ও নয়নাভিরাম উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানেরআয়োজন করা হয় বার্সিলোনায়। হ্যাভেলাঞ্জ ফিফার সভাপতি হবার পর বিশ্বকাপেরচূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহন করে। বাছাইপর্বে অংশ নেয় সর্বাধিক সংখ্যক ১০৬টিদেশ। অংশগ্রহনকারী ২৪টি দলকে ৬টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। লীগ ভিত্তিতে খেলা হয়।প্রতি গ্রুপের শীর্ষ ৪ দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। বার্সিলোনায়বর্ণাঢ্য উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়। ৫০ মিনিট ধরে চলে এঅনুষ্ঠান।
    পশ্চিম জার্মানী ও ফ্রান্সের মধ্যে সেমিফাইনালটিকে শতাব্দীরসেরা খেলা বলা যায়। ১২০মিনিটেও খেলার ভাগ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।অপেক্ষা টাইব্রেকারের। তাতেও কোনো ফয়সালা হলো না। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারেখেলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় সাডেন ডেথ পথকেই বেছে নিতে হয়। উত্তেজনায় ঠাসা ওম্যাচে পশ্চিম জার্মানী ৮-৭ গোলে জিতে ফাইনালে ওঠে। অপর সেমিফাইনালের দারুণখেলল ইতালিয়ানরা পোল্যান্ডের বিপক্ষে। ইতালির সোনার ছেলে পাওলো রসি সবদায়িত্ব একাই কাঁধে নিয়ে দুটি গোল করলেন। নৈপন্যে ম্যারাডোনা জিকো, প্লাতিনি, রুমেনিগেকে ছাড়িয়ে গেলেন রসি।
    ব্রাজিলের জিকো, সক্রেটিস, ফ্রান্সের প্লাতিনি, পশ্চিম জার্মানীর রুমেনিগে, ব্রিটনার যা পারেনি তাইকরলেন পাওলো রসি। অনেকটা অপ্রত্যাশিত হলেও রসি ইতালিকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দেন।ইতালি এ বিশ্বকাপে ফেবারিট ছিল না। ম্যাচ জুড়ে পশ্চিম জার্মানীর রুমেনিগে, ব্রিটনার, ফিমার আধিপত্য বিস্তার করলেও ইতালি দ্বাদশ বিশ্বকাপের ফাইনালজিতল ৩-১ গোলে। ৪০ বছর বয়স্ক ইতালির গোলরক্ষক অধিনায়ক দিনো জফ জেতেন দ্বাদশবিশ্বকাপ।

    ১৯৮৬ বিশ্বকাপ
    বিশ্বের অন্যতম ফেবারিটআর্জেন্টিনা জন্ম লগ্ন থেকেই প্রায় ৫০ বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রথম এবং ১৯৮৬সালে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় বারের মত বিশ্বকাপ পায়। ম্যারাডোনার মতো বিশ্বসেরা ফুটবল তারকা পৃথিবীতে খুব কমই জন্ম নেয়। সর্বকালের অন্যতম সেরাফুটবলার ডিয়োগো ম্যারাডোনার অবদানের জন্যই ১৯৮৬ সালে আবারও শিরোপা জয়েরস্বাদ পায় ল্যাটিন আমেরিকার এ দেশটি। ফুটবল ৯০ মিনিটের খেলা। কোনো একমূহুর্তের ভুলের জন্য চরম খেসারত দিতে হয়। তাই বেশ কয়েকবার চ্যাম্পিয়নেরদ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছে এই তারকা সমৃদ্ধ দেশটি।
    ওই বিশ্বকাপে আরএকটি দলের কথা না বললেই নয়, সেই দেশটি ডেনমার্ক। নতুন ধরনের ফুটবলে তারাচমক দিয়েছিল বিশ্বকে। স্কটল্যান্ডকে ১-০ উরুগুয়েকে ৬-১ এবং পশ্চিমজার্মানীকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের চমক হিসাবে আবিভূর্ত হয় তারা।তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেনের কাছে ১-৫ গোলে হেরে আকাশ থেকে বিলাপ করেমাটিতে পড়ে ডেনিশরা।
    ফুটবলের এ আসরেই অমরত্বের পথে যাত্রা শুরুম্যারাডোনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে ম্যাচে আলোচিত দুটি গোল। একটি সেরারসেরা, অন্য ১টি প্রবল বিতর্কিত। হাত দিয়ে করা সে গোলটিকে ‘ঈশ্বরের হাত’- এরগোল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন ম্যারাডোনায় স্বয়ং। ইংল্যান্ডের ৬ জনডিসেম্বায় এবং গোলরক্ষক পিটার মিলটনকে কাটিয়ে যে গোলটি করেন তিনি, ফুটবলইতিহাসে এর দ্বিতীয় কোনো তুলনায় খুঁজে পাওয়া ভার। সেমিফাইনালেও ২-০ গোলেহারিয়ে দিল বেলজিয়ামকে। গোল দুটিই করেন ম্যারাডোনা। ফাইনালে কোন গোলকরেননি, কিন্তু তার পাস থেকেই দলের ৩টি গোলের দুটি হয়। যার মধ্যে আছেজয়সূচক গোলটিও। এ বিশ্বকাপের আলোচনায় ম্যারাডোনার আগে আর কার নাম আসবে?

    ১৯৯০ বিশ্বকাপ
    বিশ্বকাপেরএ আসরটি বসে ফুটবলের আরেক পরাশক্তি ছন্দময় ফুটবলের দেশ ইটালিতে। মোট খেলাঅনুষ্ঠিত হয় ৫২টি। সেবারের টপ স্কোরার সিলাচী সর্বোচ্চ ৬টি গোল করেন।পশ্চিম জার্মানী তৃতীয় বারের মত বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ান হবার গৌরব অর্জন করেইটালির এ আসরে। সিলাচী ব্যক্তিগত ৬টি গোল করে গোল্ডেন বুট পাওয়ার খেতাবঅর্জন করে।

    ১৯৯৪ বিশ্বকাপ
    ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিলযুক্তরাষ্ট্র। অনেক ঘটনা, দূর্ঘটনা ও নাটকীয়তার সাথী এ আসর। আর্জেন্টাইনলিজেড দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ডোপিংয়ের অভিযোগ বাদ দেয়ার আরো বেশীআলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ। প্রতিটি বিশ্বকাপেএকমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী এবং অনন্য রেকর্ডধারী দেশ ব্রাজিল। এ আসরেচ্যাম্পিয়নও হয় দেশটি। কোচ ছিলেন কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা। আর ব্রাজিলকেচ্যাম্পিয়ান করার মূল নায়ক ছিলেন স্ট্রইকার রোমারিও। অভিজ্ঞ ও চতুরফরোয়ার্ডের কাঁধে ভর করেই কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং শেষ পর্যন্তচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। কিন্তু শিরোপা জয়ের মূল নায়ক রোমারিওকে দলেই নিতেচাননি কোচ পেরেইরা।
    শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের অনুরোধ ও চাপেরমুখে রোমারিওকে দলে সুযোগ দিতে বাধ্য হন পেরেইরা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলদলের সঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার সুযোগ হয় তার। রাশিয়ার বিপক্ষেররোমারিওর করা গোল ব্রাজিলকে ২-০ গোলের জয় এনে দেয়। কোয়ার্টার ফাইনালেশক্তিশালী ডাচ দলের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতে ব্রাজিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তেঅর্থাৎ ৮০ মিনিটে রোমারিও গোল করে ব্রাজিলকে ফাইনালে তোলেন। এরপর তো ইতালিরবিপক্ষে ফাইনালের নাটকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জয় হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ব্রাজিল।

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপ
    ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের আসরটি বসেফ্রান্সে। এ আসরে অনেক ঘটনাই ঘটে। একটি বিশ্বকাপে ৫৮টি গোল হয়। সর্বোচ্চ১৩টি গোল করেন জাস্ট কন্টেইন, তিনি ফরাসীর অধিবাসী। স্বাগতিক দেশ ফ্রান্স, চিন্তায় চেতনায়, ধ্যানে ও জ্ঞানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এ দেশটিতেঅলিম্পিকের রূপকার পিয়েরে দ্য কুববার্তা এবং বিশ্বখ্যাত ফুটবলার জিনেদিনজিদানের জন্মও এই ফ্রান্সে।
    এ বিশ্বকাপে ৩২ দেশ মূলপর্বে অংশ গ্রহন করে।৮টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শক্তি পরীক্ষায় নামে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ওরানার্স দল দ্বিতীয় রাউন্ডে অর্থাৎ পিকোয়াটার ফাইনালে নক আউট পদ্ধতিতেলড়াই এ অংশ নিয়ে কোয়ার্টার, সেমি ও ফাইনালে প্রবেশ করে। সৌদি আরবেরবিরুদ্ধে ফ্রান্সের বিশাল জয়ের মধ্যেই একটি দুঃখ ছিল তাদের। তা হলো শীর্ষখেলোয়াড় জিনেদিন জিদানকে লালকার্ড দেখানো। কোয়ার্টার ফাইনালে ট্রাইব্রেকারেতৃতীয় বারের মতো হেরে বিদায় নিতে হয় ইতালিকে। ১২০ মিনিট ফ্রান্স বা ইতালিকোন পক্ষই গোল করতে না পারায়; গত বিশ্বকাপের শেষ ঘটে।

    ২০০২ বিশ্বকাপ
    এশিয়ারবুকে প্রথম বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশ যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান।শতাব্দীর প্রথম সহস্রাব্দেরও প্রথম এ আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ।২০০২ সালের বিশ্বকাপে বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ যোগ দেয় ১৯৮টি দেশ। তবেমূলপর্বে ৩২টিই। প্রতি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স নিয়ে প্রিকোয়ার্টারফাইনাল থেকে শেষ অবধি নক আউট পদ্ধতিতে সমাপ্তি।
    দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলেপ্রথম খেলা ও ফাইনাল ম্যাচ ৩০ জুন জাপানের ইয়াকোহামায় অনুষ্ঠিত হয়। ১মসেমিফাইনালে জার্মানী স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়াতে অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।মাইকেল বালাক বিজয় সূচক গোলটি করেন (১-০)। জার্মানীর অভিজ্ঞতায় কাছেকোরিয়ার হার হয়। জাপানের সাইতামায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ব্রাজিলও১-০ গোলে তুরস্ককে হারিয়ে উঠে পরপর ৩ বার তারা ফাইনালে উঠে। জাপানেরইয়োকোহামায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে ব্রাজিল ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বজয়ী হয় ৫ বারেরমতো। দুটি গোলই করেন রোনান্ডো। টুর্নামেন্টে ৮টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদেবার সম্মান পান।

    ২০০৬ বিশ্বকাপ
    জার্মানীতে অনুষ্ঠিত এবিশ্বকাপে সবাই ধরেই নিয়েছিল শক্তিশালী জার্মানীরা তুলে নিবে বিশ্বকাপ।কিন্তু তারা সেমিফাইনালেই বিদায় নেয়। ফ্রান্স ও ইতালীর ফাইনালটি ছিলনাটকীয়তায় ভরপুর। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় ও ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলউপাধি প্রাপ্ত ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান খেলার বাইরে হেড বাট দেয়ার জন্যরেডকার্ড পেয়ে বেরিয়ে যান। ১০ জন নিয়ে খেলে ফ্রান্স পেনাল্টি স্যুটে ইতালীরকাছে হারে ৫-৩ গোলে (১-১) বার্লিনের এ ফাইনালে। ইটালীর এটা চতুর্থবারের মতবিশ্বকাপ জেতা। জার্মানীর মিরোস্লাভ ক্লোসা ৫টি গোল দিয়ে সর্বোচ্চগোলদাতার সম্মান পান।

    ২০১০ বিশ্বকাপ
    ২০১০ সালটি ছিলবিশ্বকাপের বছর। ফিফার বিশ্বকাপ জয়ের তালিকায় যুক্ত হয় নতুন একটি দেশ।দেশটি ছিল স্পেন। এছাড়া এ বছর পৃথিবীতে ফুটবলের মাঠে ঘটেছেকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা। ১১ জুলাই জোহানেসবার্গে হল্যান্ডেরসঙ্গে ফাইনালে খেলতে নামে স্পেন। প্রথমবারের মত স্পেনের জন্য বিশ্বকাপফাইনাল। তবে হল্যান্ডের জন্য তা ছিল তৃতীয়বার। কোন বারই তারা কাপ পায়নি।প্রতিবারই তারা রানার্সআপ হয়েছিল। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনেরসঙ্গে ১-০ গোলে হেরে যায় হল্যান্ড। স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত জয়সূচক গোলটিকরেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।

    উল্লেখ্য,ব্রাজিলের বিস্ত্রীর্ণ জনপদে জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত আছেন প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি।
    জানা যায়, সেখানে বসবাস রত কেউহয়তো গত বছর ব্রাজিলেএসেছেন পার্শ্ববর্তী দেশ বলিভিয়া হয়ে, আবার কেউ হয়তো ২০-২৫ বছর ধরে আপননিবাস করে নিয়েছেন ব্রাজিলকে। ব্রাজিলএমন এক দেশ। আজ সংখ্যায়চার হাজার হলেও অদূর ভবিষ্যতে তা চার লাখ হবার অফুরান সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

    উপসংহার
    প্রতিটি বিশ্বকাপেএকমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী এবং অন্যন রেকর্ডধারী দেশ ব্রাজিল। ছন্দ, শৈল্পিকতার অপূর্ব নিদর্শন ব্রাজিলের ফুটবলে। তাই সারা পৃথিবীর সিংহভাগসমর্থকপূষ্ঠ এ দেশটির খেলা দর্শকদের আকৃষ্ঠ করে। একমাত্র দেশ ব্রাজিল যারা ৫বার বিশ্বকাপ তাদের ঘরে তুলে নিয়েছে। এই ব্রাজিল দলেই জন্ম হয়েছে শতাব্দীরসেরা ফুটবলারদের। যেমন গারিঞ্জা, পেলে, জিকো, সক্রেটিস, রোমারিও, রোনাল্ডো, রোলান্ডদিনহোর মতো বিখ্যাত সব ফুটবলারদের।