চাঞ্চল্যকর খুনের প্রত্যক্ষদর্শী আটকঃ২জনের নাম প্রকাশ!

    2
    580

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩ফেব্রুয়ারী,মতিউর রহমান মুন্নাঃ নবীগঞ্জ পৌরসভার গন্ধা গ্রামের পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের বাড়ির সীমানা প্রাচীর থেকে হবিগঞ্জের উচাইর গ্রামের  জ্যোৎস্না বেগমের (৩২) উদ্ধারকৃত ঝুলন্ত মৃতদেহ হত্যা ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবিদার মোঃ তাজ উদ্দিন (২৭) কে জিঞ্জাসাবাদের জন্য গতকাল আটক করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। হত্যা ঘটনার প্রায় দুই মাস পর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে নবীগঞ্জ শহরের বানিয়াচং রোড এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিক্সা চালক মো: তাজ উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। তাজ উদ্দিন উপজেলার ৭নং করগাও ইউনিয়নের পুরুষোত্তমপুর গ্রামের মৃত কুবাদ উল্লার পুত্র। মোঃ তাজ উদ্দিন উল্লেখিত  জ্যোৎস্না বেগমের খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী তাজ উদ্দিন আটকের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা ঝড় বইছে। স্থানীয় লোকজন দাবী করেন কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজানকে ফাঁসাতে স্থানীয় কতিপয় প্রতিপক্ষের জনৈক ব্যক্তি মোটা অংকের টাকার বানিজ্য করেছে।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ভোরে গন্ধ্যা গ্রামের বাসিন্দা নবীগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজানের বাড়ির সীমানা প্রাচীর থেকে  জ্যোৎস্না বেগমের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখে ওই গ্রামের এক মহিলা সুর চিৎকার দেন। মহিলার চিৎকারে গ্রামের অনেক লোকজন ছুটে এসে মৃতদেহ দেখেন। পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। মৃতদেহ সুরতহাল করার সময় পুলিশ মৃতদেহের ব্লাউজের নীচ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে। চিরকুটের সূত্র ধরে মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত করে পুলিশ। নিহত জ্যোৎস্নার পিতার নাম সামছু মিয়া।

    বাড়ি হবিগঞ্জ সদরের উচাইল চারিনাও গ্রামে। জ্যোৎস্নার স্বামীর বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামে। জ্যোৎস্নার খুনের ঘটনার ৮/১০ মাস আগে স্বামী মহিবুর রহমানের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছিল বলে ওই সময় লোকমুখে প্রচারিত হয়েছিল। আটক মোঃ তাজ উদ্দিন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে পৌর এলাকার মদনপুরের ২ যুবক ঘটনার রাতে অনুমান ১০ টার সময় তার সিএনজি গাড়ি নবীগঞ্জ থেকে রিজার্ভ নিয়ে আউশকান্দি থেকে জ্যোৎস্নাকে তাদের বাড়িতে আনতে যায়। মদনপুর এলাকায় এসে ২ যুবক জ্যোৎস্নাকে তাদের বাড়িতে না নামিয়ে মায়ানগর থেকে কিছু দুরে নিয়ে একটি জমিতে নেয়।

    তাজ উদ্দিনের সামনেই ওই দুই যুবক জ্যোৎস্নার গলায় গামছা পেছিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। তাজ উদ্দিন বাধা দিলে এক যুবক ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করার জন্য এগিয়ে আসলে সে আত্মরক্ষার্থে পালায়। এবং ঘটনাটি কাউকে বললে তাকে হত্যার হুমকি দেয় যুবকদ্বয়। গতকাল নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলীর সাথে আলাপকালে তিনি তাজ উদ্দিনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাজ উদ্দিনের স্বীকারোক্তি মতে দেয়া দুই যুবকের নাম বলতে রাজি হননি। পুলিশ তাজ উদ্দিনকে জিঞ্জাসাবাদ করছে। রোববার তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য হবিগঞ্জ কোর্টে পাঠিয়েছে।