চা-বাগানে শিক্ষার্থীদের ‘আলো’ কমলগঞ্জের সন্তোষ রবিদাস

0
526
চা-বাগানে শিক্ষার্থীদের 'আলো' কমলগঞ্জের সন্তোষ রবিদাস

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): সমাজে পিছিয়ে পড়া চা জনগোষ্ঠীর সন্তান সন্তোষ রবিদাস। নিজের যোগ্যতায় ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে সুযোগ পেলেই বাড়ি ফিরে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র চা শ্রমিক সন্তানদের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করছেন। তাদের নিয়ে করেন সচেতনতামূলক সভা ও মতবিনিময়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগরের ফাঁড়ি বাগান কানিহাটি চা-বাগানে শিক্ষার্থীদের আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন সন্তোষ রবিদাস। এখন সন্তোষ কানিহাটি চা-বাগানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন। করোনা সংক্রমণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারনে সে চা-বাগান সপ্তাহে ৫দিন শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন। সপ্তাহে একদিন নিয়েছে তাদের পরীক্ষা। একদিন থাকতো সমাজের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা, ধর্মীয় আচার রীতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনা। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ। চা বাগানের মাঝে আরও পিছিয়ে পড়া রবিদাস সম্প্রদায়ের সাবেক চা শ্রমিক সত্যনারায়ণ রবিদাস ও মা কমলি রবিদাসের ছেলে সন্তোষ। মাত্র ৬ মাস বয়সে বাবাকে হারিয়ে মায়ের কষ্টের আয়ে বড় হয়েছে সে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়ে অনেক কষ্ট করে ঢাকায় টিউশনী করে তার পড়াশোনা চালিয়েছে। বর্তমানে এমবিএ ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে সে।তার পড়ালেখার পথচলা ছিল খুবই কষ্টের। আর এজন্যই সে তার জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই তৈরী করার কাজ করছে। অন্ধকারে তাদেরকে আলো দেখাচ্ছে।

বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং তারিখে আলাপকালে সন্তোষ জানায়, তার মা আগে দৈনিক মজুরি পেতেন ৮৫ টাকা। এখন পান ১২০ টাকা। মায়ের এ আয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন ছিল। তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে কিস্তির টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তার খরচ চালিয়েছেন। আর ঋণের কিস্তি পরিমোধে চা বাগানের কাজের পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়ায় বালু উত্তোলনেরও কাজ করেছেন মা। সংসারে মা ছেলে আলু সিদ্ধ করে খেয়ে কত রাত কাটিয়েছে। তার বিশ^বিদ্যালয়ের জীবনটা ছিল খুবই কষ্টের।

তার মতে চা বাগানে এখন আর আগের অবস্থা নেই। বর্তমানে শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যানিটেশনের সুবিধা অনেকটা বেড়েছে। খরচ ও প্রতিযোগিতাও অনেকটা বেড়ে গেছে। তবে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ এখনও সঠিকভাবে গ্রহন করতে পারছে না চা জনগোষ্ঠীর সন্তানরা। তাই সে নিজের চা বাগানে গড়ে তুলেছেন শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম। æএকে অন্যকে সাহায্য কর” এ স্লোগান নিয়ে চা বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালাচ্ছেন তার কার্যক্রম। আবার মাঝে মাজে বড় আকারের আলোচনাসভাও সচেতনতামূলক সভা করেন চা বাগান নাচ ঘরে।

এতে করে চা শ্রমকি সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের শিক্ষার উন্নয়ন ও নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে চা শ্রমিক সন্তান শিক্ষার্থীদের। একেবারে নিজ উদ্যোগে চলছে এ কার্যক্রম। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে তার কার্যক্রম আরও বৃহৎ হতে পারে বলে সন্তোষ মনে করেন।