চুনারুঘাট চা বাগান গুলোতে উৎপাদন কমেছে ৩০ লাখ কেজি!

0
363

এস এম সুলতান খান, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকেঃ দেশে ২০২২ সালে চায়ের রেকর্ড উৎপাদন হলেও হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের লস্করপুর ভ্যালীতে চায়ের উৎপাদন কমেছে ৩০ লাখ কেজি।
চা বাগান গুলোতে টানা ২০ দিনের অবরোধ, অতিমাত্রায় খরা ও রেড স্পাইডার ও হেলোফিলিটস রোগের কারণে এ উৎপাদন কমেছে। দেশে চায়ের উৎপাদন বাড়লেও এই ভ্যালীতে ২০২১ সালের চেয়ে ২০২২ সালে ২২.৯৯ শতাংশ কম। চলতি ২০২২ সালে মওসুমের শুরুতেই খরার কবলে পড়ে ভ্যালীর ছোটবড় ২৪টি চা বাগান।
এপ্রিল থেকে চায়ের মওসুম শুরু হলেও খরার কারণে চায়ের পাতা চয়ন কমে যায়। এরই মধ্যে আগষ্ট মাসে টানা ২০দিন চা শ্রমিকরা বাগানগুলোতে অবরোধ পালন করে। এতে বড় ক্ষতির মধ্যে পড়ে ভ্যালীর ২৪টি চা বাগান।
এছাড়া রয়েছে রেড স্পাইডার ও হেলোফিলিটস মশার আক্রমন। চায়ের মওসুম এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর নভেম্বর হলেও সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর এ ৪ মাসেই উৎপাদিত হয় ৬০ শতাংশ চা। কিন্তু আগষ্ট মাসে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা ২০দিন অবরোধের কারণে ভ্যালীতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন কমে আসে।
২০২১ সালে ভ্যালীর ২৪ টি চা বাগানে ১ কোটি ৩২ লাখ ৫শ ১১ কেজি চা উৎপাদন হলেও ২০২২ সালে উৎপাদিত হয় মাত্র ১ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭ কেজি। যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩০ লাখ ৩৫ হাজার কেজি কম। শতাংশ হিসেবে তা ২২.৯৯ শতাংশ কম।

চা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২১ সালে করোনায়ও চায়ের উৎপাদন কমাতে পারেনি। কিন্তু চলতি বছর খরা, নানা রোগ এবং টানা অবরোধের কারণে উৎপাদন মারাত্বক হ্রাস পেয়েছে।
তাছাড়া গত ১০ বছরেও চায়ের নিলামে মুল্য না বাড়ার কারণে ক্ষতির পরিমান বাড়লেও বাড়ছে না উৎপাদন। ২০২১ সালের ভ্যালীতে বৃষ্টি হয়েছে ১৭৭.৩১ সেঃ মিটার কিন্তু ২০২২ সালে বৃষ্টির পরিমান বেড়ে দাড়ায় ২১৪.২০ সেঃমিটারে। বৃষ্টির পরিমান পরিমিত না থাকা এবং অবরোধের কারণে চা উৎপাদন ব্যহত হয়। ভ্যালীর অধিকাংশ চা বাগান চলতি বছর তাদের লক্ষমাত্রা পুরণ হয়নি।
ডানকান্ ব্রাদার্সের চান্দপুর বাগানে ৪৪.৩৮ শতাংশ, আমু চা বাগানে ২৬.৫৭ শতাংশ. লালচান্দ চা বাগানে ৩৫.৫৯শতাংশ, দেউন্দি চা বাগানে ৩১.০৮ শতাংশ এবং লস্করপুর চা বাগানে ৩০.৮৬ শতাংশ চা কম উৎপাদন কম হয়েছে।
এ বিষয়ে চন্ডিছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও লস্করপুর ভ্যালীর সভাপতি ইউসুফ হোসেন খান জানান, আগষ্ট মাসে টানা শ্রমিক অবরোধ আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে এবং বাগানে খরার পাশাপাশি রেডস্পাইডার, হেলোফিলট নামক মশার আক্রমনের কারণে চায়ের উৎপাদন আরও কমে গেছে।