চুপ্পু দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি আলমগীরের

    0
    189

    আমারসিলেট24ডটকম,১০ডিসেম্বরঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন চুপ্পু দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
    ফখরুল বলেন, “সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত। এর মাধ্যমে তিনি তার এখতিয়ার অতিক্রম করেছেন।”
    আজ বুধবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
    দুদকের সমালোচনা করায় মঙ্গলবার দুর্নীতিবিরোধী দিবসের এক অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বক্তব্য দেন। এর জবাবে ফখরুল এসব কথা বলেন।
    শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “তিনি যে ভাষায় কথা বলছেন একটি সাংবিধানিক পদে থেকে তা বলতে পারেন না। আমরা যতটুকু জেনেছি তিনি (চুপ্পু) ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। যে কারণে তিনি রাজনৈতিক নেতার মতোই বক্তব্য দিয়েছেন। এখতিয়ার অতিক্রম করে এসব বক্তব্য তার মুখে শোভা পায় না।” খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান ফখরুল।
    টিআইবির সমালোচনা করে চুপ্পুর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “সারাদেশের মানুষ জানে দুদক সঠিকভাবে, ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে না। আর দুদকের ব্যর্থতা যখন টিআইবি জনসম্মুখে প্রকাশ করেছে তখন তাদের গায়ে জ্বালা ধরে গেছে।”
    বিশ্ব মানবাধিকার দিবস প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো যখন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট তখন বাংলাদেশে স্বয়ং রাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করছে। এদেশে মানবাধিকার এখন শুধু ভূলুণ্ঠিত নয়, ধ্বংস প্রায়।”
    সরকার রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “বিএনপি মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে আপসহীন।”
    বিএনপি কিভাবে আপসহীন থাকবে এমন প্রশ্নে  তিনি বলেন, “আমরা জুলুম অত্যাচারের মধ্যেও গুম, খুনের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করছি। আর আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সভা সমাবেশ, মানবন্ধন করছি। কিন্তু তাতেও সরকার বাধা দিচ্ছে।”
    আবারো গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা থেকে সরকারকে সরে আসার আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মাত্র একবার দাম বাড়ানো হয়েছিল। অথচ অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুইবারসহ মহাজোট সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার দাম বাড়িয়েছে।”
    বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবারহে লোকসানের পরিমাণ গড়ে দুই টাকা .৫৭ পয়সা ও তার বেশি এবং বার্ষিক লোকসানের পরিমাণ আট হাজার কোটি টাকা বলেও দাবি করেন ফখরুল। সরকারকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহতে বদ্ধপরিকর।”
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আইনজীবী ব্যারিস্টার তুহিন মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার সমালোচনা করেন। আন্দোলন দমন করতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
    দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আবদুস সালাম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে  উপস্থিত ছিলেন।