ছাত্রী উত্যক্তের অপরাধে গ্রামবাসীর হাতে প্রহৃত ছাত্রলীগ নেতা 

    0
    234
    কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়মিত উত্যক্ত করে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক একই গ্রামের সুমন মিয়া (২৩)। বোনকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক সপ্তাহ আগে ছাত্রলীগ নেতা সুমন ও তার সহযোগীরা ছাত্রীর ভাই শওকত খানকে উপজেলা সদরে প্রহার করেছিলো এর জের ধরে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রামবাসীরা উত্যক্তকারী ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করেছে। এ নিয়ে মাধবপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে পাল্টা হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রামবাসীরা।
    ছাত্রীর ভাই শওকত খান অভিযোগ করে বলেন, তার বোন কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষ্ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন মিয়া ও তার সহযোগিরা নিয়মিত উত্যক্ত করে। এজন্য তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে গত সপ্তাহে উপজেলা সদরের আতিক মেকানিকের দোকানের সামনে পেয়ে সুমন ও তার সহযোগী মঈন উদ্দীন তাকে প্রহার করেছিল।
    এজন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বনগাঁও গ্রামে সুমনকে ডেকে গ্রামবাসীরা তাকে (শওকতকে) প্রহার সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে সুমন গ্রামবাসীর সাথে উত্যপ্ত বাক্য বিনিময় করলে গ্রামবাসীরা তাকে মারধর করেছে। জবাবে ঘন্টা খানেক পর সুমনের সহযোগীরা তার (শওকতের) দুই আত্মীয়কে প্রহার করেছে। সাথে সাথে হুমকি দিয়ে গেছে শক্তহাতে আবারও তারা হামলা চালাবে। শওকত আরও বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিবের সমর্থক বলে তার প্রভাবে সুমনের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারে না।
    এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধবপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বলেন ছাত্রলীগ নেতা সুমন ও তার সহযোগীরা চাঁদাবাজি, বালি মহাল দখল,পাহাড় কাটা, হামলা, লুটপাট ও মেয়েদের নিযমিত উত্যক্ত করে থাকে। এমনকি মাধবপুর চা বাগান লেকে আগত নারী পর্যটকদেরর তারা নানাভাবে নাজেহাল করে থাকে।
    গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সুমনের নেতৃত্বে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বোরহান মিয়ার দোকান ভাঙ্গচুর ও লুটপাঠ করেছিল। পরবর্তীতে সামাজিক বিচারে ১৫ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছে।
    গ্রামবাসীর হাতে মারধর ও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে কয়েক দফা তার মুঠোফোনে চেষ্টা করলেও সুমন মিয়ার ফোন বন্ধ পাওযা যায়।
    তবে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব মুঠোফোনে বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে শওকতের নেতৃত্বে গ্রামের কিছু লোক সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে। তাছাড়া সুমনের উপর অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয় বলেও ছাত্রলীগ সম্পাদক জানান।
    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, সকালে মাধবপুরে একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছেন। তবে কেউ থানায় কোন অভিযোগও করেনি। তার পরও পুলিশ সতর্কতার সাথে বিষয়টি দেখছে বলে তিনি জানান।