জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার:প্রধানমন্ত্রী

    0
    193

    আমারসিলেট24ডটকম,১৯নভেম্বরঃ শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ঘৃণ্য অপরাধীদের মাফ করে দেয়ার সংস্কৃতির অবসান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুবিচার পাওয়া নিশ্চিতকরণ এবং জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নও ছিল বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করা। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আজ বুধবার সরকারি দলের এ কে এম রহমতুল্লাহ’র এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
    সংসদ নেতা বলেন, আমি অঙ্গীকার করেছিলাম যে, এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে উচিত সাজা নিশ্চিত করলে স্বাধীনতার জন্য যে লাখো শহীদ আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং ২ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছেন, তাদের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা তৃপ্ত হবেন। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে এ যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচারের জন্য আমি দাবি তুলেছিলাম এবং শহীদদের মাদের নিয়ে এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, তাদের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করা শুরু হয়েছে বলে আমি স্বস্তি বোধ করছি।
    শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট নির্বাচনী ইশতেহারে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতা বিরোধ অপরাধ যেমন- খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, জোর করে ধর্মান্তরিত করা, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দণ্ডযোগ্য অন্যান্য অপরাধ সংঘটনকারীদের সুষ্ঠু বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে সার্বভৌম জাতীয় সংসদে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩-এর ধারা ৬ অনুযায়ী ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনকারী অভিযুক্তদের বিচারের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরগণ এবং এর অধীন গঠিত তদন্ত সংস্থা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংগৃহীত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যে সব অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, কেবলমাত্র ওই সকল ব্যক্তির বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
    মহাজোট নেতা বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, অবাধ পর্যবেক্ষণের সুবিধা এবং উচ্চমান বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিচালিত বাংলাদেশে চলমান মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি আরও বলেন, একমাত্র বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আইনেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি ও বাদী পক্ষের আপিল দায়ের করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
    বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ন্যুরেমবার্গ ও টোকিও ট্রাইব্যুনাল অথবা সাম্প্রতিক সময়ের প্রাক্তন যুগোশ্লাভিয়া, রুয়ান্ডা বা কম্বোডিয়ার ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের সুযোগ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এ কারণেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বা তাদের পক্ষ অবলম্বনকারী গোষ্ঠীসমূহের ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রপাগান্ডা এবং এ লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন লবিস্ট গ্রুপের পেছনে ব্যয় করা সত্ত্বেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসমূহ বাংলাদেশে চলমান মানবতা বিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারের পক্ষে ইতিবাচক মতামত প্রদান করছে।
    বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের বিচার পাওয়ার প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক এক করে সব জঘন্য মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এবং যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের প্রতি প্রদত্ত শাস্তি বাস্তবায়ন করার জন্য অবিচল থেকে কাজ করে যাবে বলে শেখ হাসিনা  আরও দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন।