জুড়ীতে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি
দখল করে বিক্রির অভিযোগ

0
170

জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিরইনতলা গ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল করে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জমি দখলসহ বিক্রির অভিযোগে আদালতে মামলাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী বিরইনতলা গ্রামের মৃত সজ্জাদ আলীর ছেলে তফজ্জুল রহমান বকুল মিয়া (৪৫)‌।

অভিযোগকারী বকুল মিয়া জানান, বকুল মিয়ার দাদা মৃত ছমেদ আলী ও দাদি মন্ত বিবি, বকুল মিয়ার পিতা সজ্জাদ আলী এবং চাচা মোছন মিয়া (৬০), দছির আলী (৭৫), ওয়ারিছ আলী (৬৫) তাদের নামে প্রায় ৮৫ বিঘা জমি ছিল। ২০০৭ সালে সজ্জাদ আলীর মৃত্যুর পর ৩ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তান রেখে গেলে পরিবারটি অসহায় পড়ে । এ সুযোগে চাচা মোছন মিয়া ২০০৮ সালে প্রবাস থেকে‌ এসে তার ভাই দছির আলী, ওয়ারিছ আলীকে নিয়ে বিভিন্ন সময় জাল দলিল তৈরি করে বিরইনতলা মৌজার বিভিন্ন দাগের বকুল মিয়ার পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও বিক্রি করতে থাকে। মোছন আলী তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমের নামে জাল দলিল তৈরি করে সাড়ে ৩ একর জমি দখল করে নেন‌। অতি সম্প্রতি বকুল মিয়ার দাদি মন্ত বিবির নামে দলিলকৃত ২০ শতক জমি জালিয়াতি করে বিক্রি করে দেয় মোছন আলীসহ তার চাচারা। এতে বকুল মিয়া প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। বকুল মিয়া তার পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০১০ সালে কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে (মামলা নং- ১০৭) মামলা দায়ের করে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি ও দখলের বিষয়ে ভুক্তভোগী বকুল মিয়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা রেজিস্টার , দুর্নীতি দমন কমিশন, জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সিনিয়র সহকারী জজ আদালত কুলাউড়া বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোন সুরাহা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। এ সম্পত্তি নিয়ে ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বিচার সালিশের পরও সমাধান না হওয়ায় ন্যায় বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী বকুল।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলতলার একজন প্রবীণ দলিল লেখক বলেন, বিচার সালিশে আমিও কয়েকবার উপস্থিত ছিলাম। বকুল মিয়ার পরিবারটি অসহায় হওয়ায় শালির বৈঠকের রায় না মেনে বিভিন্ন সময় জাল দলিল করে জমি বিক্রি করে দিচ্ছে‌ অভিযুক্তরা।

অভিযোগের বিষয়ে মোছন আলী মুঠোফোনে বলেন, বকুল মিযার অভিযোগ মিথ্যা।