জুড়ীতে জীবিতকে মৃত বানিয়ে !

0
39

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৪ জনকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম। এদেরকে বাদ দিয়ে অন্য ৪ জনকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়- জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মজিদ এর পুত্র মোঃ এনামুল হক জুলাই ২০১৮খ্রিঃ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের শেষের দিকে কয়েক মাস ভাতা না পাওয়ায় ভাতার বই নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে ভাতা না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কার্যালয় থেকে বলা হয় এ কার্ডের মালিক তো মারা গেছেন, তিনি আর ভাতা পাবেন না। এনামুল বললেন-এ কার্ডের মালিক আমি স্বয়ং আপনার সামনে জীবিত দাড়িয়ে, আমি মারা গেলাম কীভাবে? তখন বলা হয়েছে আপনি ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করুন।

অনুসন্ধানে জানা যায়- বিগত ২৫ অক্টোবর ২০২৩খ্রিঃ তারিখে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাইয়ূম এর সভাপতিত্বে ইউনিয়ন বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কমিটির সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় বয়স্ক ভাতা ১৩৮ জন, বিধবা ২২ জন ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ১০ জনসহ ১৭০ জন মৃত ভাতাভোগী পাওয়া যাওয়ায় তাদের স্থলে নতুন সমান সংখ্যক ভাতা ভোগীর তালিকা তৈরি করে তা প্রতিস্থাপনের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। তাছাড়া ২২ ডিসেম্বর ২০২৩খ্রিঃ তারিখে ৬নং ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন ও চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাইয়ূম সাক্ষরিত ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে প্রদত্ত প্রত্যায়ন পত্রে এনামুল হক ৫ এপ্রিল ২০২১ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন বলে উল্লেখ করা হয়। একই তারিখের অপর পৃথক ৩ টি প্রত্যায়ন পত্রে ছায়রা বেগম, পিতা- আলী, গ্রাম- মাগুরা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং, শারিজুন নেছা, স্বামী- মৃত মস্তকিন আলী, গ্রাম- গোয়ালবাড়ি ৩ জুলাই ২০২১ইং ও শ্রী অঞ্জলী রানী দেব, পিতা- বীরেশ চন্দ্র সেন, গ্রাম- মাগুরা ১৭ মে ২০২২ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন উল্লেখ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। চেয়ারম্যান প্রদত্ত ১৭০ জনের তালিকা ধরে তদন্ত করলে আরো অসংখ্য জীবিতকে মৃতের তালিকায় পাওয়া যাবে।

জীবিতদের মৃত দেখিয়ে প্রত্যায়নপত্র দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাইয়ূম ও ৬নং ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন এজন্য এক তরফা ভাবে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে দায়ী করেন। তারা বলেন- সমাজসেবা কার্যালয় থেকে উপরোল্লেখিত ব্যক্তিদের নামে মৃত্যুসনদ দেয়ার জন্য আমাদের বলা হলে আমরা তা দেই। পরে জানতে পারলাম উনারা জীবিত ! তখন নতুন করে প্রত্যায়নপত্র দিয়ে তাদের ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ করা হয়। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন ছাড়া তাদের মৃত্যুর তারিখ কোথায় পেলেন? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ চৌধুরী বলেন- নির্দিষ্ট সময় পর পর সকল ভাতাভোগীদের হালনাগাদ তথ্য সকল ইউনিয়ন পরিষদে চাওয়া হয়। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা যাচাই-বাছাই করে মৃত্যুসনদ/প্রত্যায়নপত্রসহ মৃতদের বাদ দিয়ে নতুনদের তালিকা পাঠান। সে অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নেই। অনেক সময় কিছু মেম্বার অবৈধ লেনদেন করে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে বাদ দিয়ে অন্যকে তালিকাভুক্ত করেন। এখানে সমাজসেবা কার্যালয়ের কোনো দায় নেই।

জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং বলেন- ঘটনাটি সত্য হলে অন্যায় হয়েছে। বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।