জেনারেশন না হয়েও থ্রিজি’র স্বাদ:অন্ধের হাতি দর্শন

    0
    261

    আমারসিলেট24ডটকম,১৯অক্টোবর,আশরাফুল ইসলাম রাসেল: সব সম্ভবের দেশ এদেশে কোন জেনারেশন বা প্রজন্মকে তৈরী না করে উন্নতির প্রানবন্ত অভিনয় করার জন্য অথবা নিজের সফলতার ঢোল নিজেই পিটিয়ে ফাটিয়ে দিয়েছেন আমাদের উপ-স্বপ্নদ্রষ্টারা। এখন সকলের ঢোলই কর্কশ ঢোলের আওয়াজ। এদেশের রাজনীতির মাঠ-ময়দান গরম করার জন্য স্বপ্নের ঝুলি নিয়ে আসেন, আর এতে থাকে যেকোন অসাধ্য সাধনের অঙ্গীকার আর আশ্বাসের হাওয়াই মিঠাই। একই গান, একই কবিতা, একই কথা ঘুরেফিরে শুনতেই হচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক বরপুত্র-কন্যা-ছেলের মা-এরাও ঘুরেফিরে একই কথা বলেন। বিভিন্ন যান্ত্রিক পরিবর্তনের কারনে ঠউঙ হতে ঈউ,তারপর জঔ, উঔ, কঅজঅঙকঊ হয়ে আজ একটা চিপ এর মধ্যে নিয়ে এসেছে। আমাদের জীবনধারা দোয়েল ল্যাপটপ ও নেটবুক এর মতই উড়ে উড়ে যায়। সত্যিই তো, প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১১৮ জনের দল ইউরোপ পৌঁছে গেছেন। জানা গেছে, আরো অন্তত ১২ জন টিকেট ও সিট না থাকার কারনে ইউরোপ জয় এবং কিয়দংশ ক্রয়-বিক্রয় করার ব্যাপারে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় পুরো জাতি। আসন এবং পাটাতন আছে কি নেই, সে  চিন্তা না করে, ধাবমান ট্রেন থামিয়ে দেয়ার অভিজ্ঞতায় জর্জরিত এদেশের মানুষ যানবাহনে দাড়িয়ে, ঝুলে যাতায়াত করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই, আমার মনে হয়, ইচ্ছে করলে ফেলে যাওয়া ১২ জনকে নেয়া সম্ভব হত। কিন্তু, আমরা দ্রুততার ও হতাশার প্রমান পাই । তাই, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নেপ্রাপ্ত নির্দেশনাকে বাস্তবায়নে রেডিও টেপ এর বদলে ল্যাপটপ ও নেটবুক তৈরী শুরু হয়। বনের পাখি বনে উড়ে যাবে জেনেও ল্যপটপ ও নেটবুকের ব্র্যান্ড নাম রাখা হল দোয়েল। দোয়েলের খবর না জানলেও আমরা থেমে নেই। একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার দরকার ছিল।

    এসবের মধ্যেও আমরা অচিরেই ভোগ করতে যাচ্ছি থ্রিজি – থার্ড জেনারেশন। মাইকেও ঘোষনা দিয়েছেন কোম্পানীর লোক। আমাদের শুধু অপেক্ষা করতে হবে, ধৈর্য্য ধরতে হবে। শিক্ষা-পরিচয়-চেতনার কোন প্রয়োজন নেই, শুধু চুপ করে বসে থাকতে হয়। আমাদের আশিভাগ তরুন জানে না থ্রিজি, টুজি দিয়ে আসলে কি বোঝানো হয়। কিন্তু এই জি বা জেনারেশনের চাপ ও উত্তেজনার ফাঁকে পড়ে থাকে হাজারো মানুষের দু:খগাঁথা- কেউ শুনে না। মানবিকতার ধারনার বিপরীতে বানিজ্যিক ও বিলাসবহুল জীবনের হাতছানি আর ডিজিটাল মায়ায় অকার্যকর হয়ে পড়ে মানুষ। মাঝে মাঝে ডিজিটাল ঝামেলায় হারাতে হয় ইজ্জত ও সন্মান।

    গত ১৮ অক্টোবর ছিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে আবেদন করার শেষ দিন। শেষ দিনে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও একটি আবেদনপত্র পূরন করে দাখিল(ংঁনসরঃ)করা সম্ভব হয়নি। এই লেখক নিজের পাঁচজন ছাত্রের পক্ষে আবেদন করার দায়িত্ব নিয়ে ডিডজটাল সমস্যায় পতিত হয়ে আবেদন সম্পূর্ন করতে পারেননি। ফলে, আবেদন করতে না পারার দায় এসে পড়ে এই প্রবন্ধের লেখকের উপর। স্বাভাবিকভাবেই, আবেদন করতে না পারার কারনে অপমান ও লজ্জার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হবে কয়েক বছর। যারপরনাই চেষ্টা করেও ১২ ঘন্টায় একটিও আবেদন সম্পন্ন করতে না পারায় দায়িত্ব আসলে ডিজিটাল বাংলাদেশের। অন-লাইন আবেদনের নামে নতুন এক প্রতারনার বিস্তৃত জালে বিভ্রান্ত হচ্ছে এদেশের লক্ষ-কোটি এনালগ মানুষ। চোখে ধাধা লাগানোর পরিকল্পিত আযোজনের ব্যর্থতা এসে পড়ছে নিরপরাধীদের উপর। কোন প্রজন্ম প্রস্তুত না করে প্রজন্মের নামে পণ্য বিক্রি করার বাজার সৃষ্টি করার হীন মানসিকতার শিকার হচ্ছি আমরা। নির্দেশনা থাকবে, অন-লাইনে আবেদন করে টেলিটকে রিচার্জ করে , ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করতে হবে আবেদনের অবস্থা। এক্ষেত্রে, একজনের প্রানান্তকর চেষ্টা নয়, বিভিন্ন প্রকার জি এর মর্জির উপর নির্ভর করে কৃতিত্ব। যে, জেনারেশনের ৮০ ভাগের বেশী তরুন-যুবা নিজেদের নামপরিচয় পড়তে ও লিখতে পারে না, সেই প্রজন্ম কিভাবে একটি অন-লাইন ভিত্তিক  দ্রুততর সমাজ বিনির্মানের দায়িত্ব নেবে?