জৈন্তাপুরে দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুরের পর পোড়ানো হলো ১২২ দোকান

    0
    488

    ॥ হুমায়ুন রশিদ রিমন, প্রতিনিধি ॥ 

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর ও চিকনাগুল এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল শনিবার একটি বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকান ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে এক পক্ষ। পরে তারা একটি চা-বাগানের বাংলোসহ আশপাশ এলাকার বসতঘরও ভাঙচুর করে। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলা, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগে সন্ধ্যায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন চিকনাগুল বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।  
    প্রত্যক্ষদর্শী ৫ নং ফতেহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কাওছার ও পুলিশ সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে চিকনাগুল এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী হারুন ও মোহাম্মদের সঙ্গে চিকনাগুলের বাসিন্দা লেগুনা চালক জয়নালের বাগবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হরিপুরের বিক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোঁটা, সুলপি ও দা নিয়ে ওই মহাসড়ক অবরোধ করে লেগুনা চলাচল বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে চিকনাগুলের লোকজন সেখানে পাল্টা অবস্থান নেয়। পরে হরিপুরের সহস্রাধিক লোক চিকনাগুল বাজারে হামলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাজারের প্রবেশমুখে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে চিকনাগুল বাজারে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় হরিপুরবাসী। এতে ১২২টি দোকান পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়। হরিপুরবাসী মহাসড়কের পাশের ২০টি বসতঘরেও ভাঙচুর চালায়। পরে হাবিবনগর চা-বাগানের বাংলোতে গিয়ে হামলা করে বাংলোর সম্মুখ ভাগ ও সামনে থাকা প্রাইভেট কার ভাঙচুর করে চিকনাগুলবাসী। একপর্যায়ে বাজারের উভয় দিকে মহাসড়কের সাতটি গাছ কেটে অবরোধ তৈরি করেন চিকনাগুলের ব্যবসায়ীরা। পরে এ গাছে আগুন ধরিয়ে দেয় হরিপুরের লোকজন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এরপরও সংঘর্ষ চলতে থাকলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ অবস্থায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
    চিকনাগুল বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হামলার ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ওই মহাসড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ওসিকে প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

    সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, হামলা-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া লোকজনের সংখ্যা কয়েক হাজার হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পরে পুলিশ ২৭টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।