জৈন্তাপুরে নিজেরা রাস্তা সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছে স্থানীয়রা

0
110
জৈন্তাপুরে নিজেরা রাস্তা সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছে স্থানীয়রা

রেজোয়ান করিম সাব্বির (আর কে এস) জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: জৈন্তাপুরে দফায় দফায় ভয়াবহ আগ্রাসী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ ফুট রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের কাছে বেশ প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে, একই সাথে চলাচলের উপযোগী করে তুলা হয়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি কে।

বিগত ৩০ মে গভীর রাতে উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১নং লক্ষীপুর গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্যার পানির প্রবল স্রেতে রাস্তার ১৫০ ফুট পর্যন্ত ভেঙ্গে গভীর খালের সৃষ্টি হয়।

এ সময় রাস্তার বিপরীতে থাকা হারুন মিযার বাড়ী ও বাড়ীতে থাকা সব আসবাবপত্র পানির স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হারুন মিয়ার মালিকানাধীন বাড়ী হারিয়ে এখনোও গৃহহীন অবস্থায় বসবাস করছে।

বন্যায় রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে লক্ষীপুর গ্রামে কোন যানবাহন যাতায়াত করতে পারছে না। তার উপর বিগত ১৭ই জুন দ্বিতীয় দফা ও ১লা জুলাই তৃতীয় দফা বন্যায় প্লাবিত হলে রাস্তার ভাঙ্গা অংশ দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

স্থানীয় বাসিন্ধারা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় ৭-৮ হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। তার মধ্যে বড় একটা অংশ হলো স্কুল ও কলেজ যাওয়া আসা করা ছাত্র-ছাত্রীরা। গত একমাস ধরে সীমাহীন কষ্ট উপেক্ষা করে ১নং লক্ষীপুর, ডুলটিরপাড়, চাতলারপাড় এলাকার মানুষ যাতায়াত করছে।

কোন ধরণের গাড়ী চলাচল না করার ফলে বাজার সদাই, বস্তা, গ্যাস সিলিন্ডারের মত ভারী পন্য নিয়ে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার এলাকা চলাচল খুবই দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিলো।

সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পুনঃ সংস্কারে বিলম্ব হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে নিজেরা সেচ্ছাশ্রম ও স্থানীয় সমাজসেবীদের সহযোগিতায় রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।

সরজমিনে ভেঙে যাওয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় গ্রামের যুবকের বাঁশ কেটে বাঁধ নির্মাণ করে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে তুলছে। এ সময় সংস্কার কাজের স্থান পরিদর্শন করেন সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা।

জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতায় ১৫০ ফুট ভেঙ্গে পড়া রাস্তা এলাকাবাসীর সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সংস্কার করছে।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছর তিনদফা বন্যায় শুধু লক্ষীপুর নয় জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা করে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পিআইও অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। সরকারের বরাদ্ধের দিকে না চেয়ে স্থানীয়দের এই উদ্যোগ অত্যান্ত প্রশংসার দাবি রাখে।