জ্বিহাদী জন কি লন্ডনের বাসিন্দা ?

    0
    257

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৬ফেব্রুয়ারীঃ ইসলামিক স্টেট বা আই এস-এর প্রকাশ করা বহু জিম্মি-হত্যার ভিডিও ফুটেজে যে মুখোশ-পরা জঙ্গীকে বারবার দেখা গেছে, সেই ‘জিহাদি জনে’র আসল পরিচয় অবশেষে জানা গেছে।

    বহু পশ্চিমী দেশের নাগরিকের শিরশ্ছেদের ভিডিও ফুটেজেই তাঁকে মুখোশ-পরা অবস্থায় হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে দোলাতে দেখা গেছে।

    আই এস-এর মার্কিন পণবন্দী জেমস ফলি, ব্রিটিশ নাগরিক অ্যালান হেনিং এবং জাপানের সাংবাদিক কেনজি গোতো – এদের প্রত্যেকের শিরশ্ছেদের ভিডিও ফুটেজেই আবির্ভূত হয়েছে এই ‘জিহাদি জন’।

    মুখোশপরা ওই জঙ্গী এই জিহাদি জন নামে পরিচিত হলেও বিবিসি এখন জানতে পেরেছে তার আসল নাম হল মোহাম্মদ এমওয়াজি।

    আরও ধারণা করা হচ্ছে মোহাম্মদ এমওয়াজি আসলে একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং সে আসলে পশ্চিম লন্ডনের বাসিন্দা।

    বিবিসি জানতে পেরেছে জিহাদি জন ছদ্মনামের এই যুবক কুয়েতি বংশোদ্ভুত। তার জন্মও কুয়েতে, কিন্তু পরে সে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পায়। থাকতো পশ্চিম লন্ডনে। বয়স কমবেশি ২৭।

    তদন্তে এটাও জানা গেছে যে মোহাম্মদ এমওয়াজি ২০০৬ সালে সোমালিয়াতে পাড়ি দিয়েছিল এবং সেখানে তৎপর জঙ্গী সংগঠন আল শাবাবের সঙ্গেও তার সে সময় ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে।

    তার বন্ধুরা ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে বলেছে, মধ্যবিত্ত পরিবারের এমওয়াজি লন্ডনের ইউনিভিার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টারে কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করেছে।

    ব্রিটেনের গোয়েন্দারা তার পরিচয় বেশ আগেই পেয়েছিলো, কিন্তু তার নাম-পরিচয় গোপন রেখেছিলো।

    এমওয়াজিকে প্রথম দেখা যায় গত আগস্ট মাসে। ঐ ভিডিও ফুটেজে তাকে মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলির হত্যাকারী হিসাবে দেখানো হয়।

    পরে একে এরকে আরেক মার্কিন সাংবাদিক স্টিভেন সটলফ, ব্রিটিশ ত্রাণ কর্মী ডেভিড হেইন্স এবং আরেক ব্রিটিশ ট্যাক্সিচালক এ্যালান হেনিং – এর মৃতদেহের ফুটেজেও সে ছিল, এবং ধারণা করা হয় এদের শিরোচ্ছেদ তার হাতেই হয়েছে।

    শেষবার তার ফুটেজ দেখা যায় গত মাসে। আইএসের হাতে আটক দুই জাপানির শিরোচ্ছেদের ঘটনার ঠিক আগে। ইন্টারনেটের ভিডিও ফুটেজে যথারীতি তাকে দেখা যায় আটক ঐ জাপানির সাথে মুখে কালো কাপড় জড়ানো ছুরি হাতে দাড়িয়ে।

    বিবিসির ডমিনিক কাসকিয়ানি বলছেন ২০১১ সাল থেকেই ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এম,আই ফাইভের নজরে ছিল। বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাসী তৎপরতার কিছু ঘটনায় তখন থেকেই তাকে সন্দেহ করা হচ্ছিল।

    লন্ডনে একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে যে ১৩ জন মুসলিম যুবককে সন্দেহের তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল, এমওয়াজিও সেই তালিকায় ছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ২০১২ সালের দিকে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেয় মোহাম্মদ এমওয়াজি।

    তবে তদন্তের স্বার্থে ব্রিটিশ পুলিশ জিহাদি জনের এই আসল পরিচয় নিশ্চিত করতে অস্বীকার করেছে।বিবিসি