তাহিরপুরের এসআই জামালের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

    0
    232

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭মার্চ,মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়াঃ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার প্রভাবশালী এসআই জামালের চলছে এলাহীকান্ড। এলাকায় জুয়ারবোর্ড চালানো থেকে শুরু করে সীমান্তে কয়লা পাচাঁরের টেন্ডার দেওয়া,বাংলা কয়লা থেকে চাঁদা উত্তোলন,যাদুকাটা নদীরপাড় কেটে বালি বিক্রি টেন্ডার,মদ-গাঁজা পাচাঁর ও হাট-বাজারে ভারতীয় নাসিরউদ্দিন বিড়ি বিক্রি টেন্ডার ও নদীপথে অবৈধভাবে নৌকা থেকে চাঁদা উত্তোলনসহ থানায় মামলা নেয়া ও দেওয়া সব করতে হয় তাকে নির্ভর করে। এছাড়া মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নিরপারধ ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে।

    এসকল অনিয়ম ও অপকর্মের কারণে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই জামালকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাহিরপুর থেকে তাকে ৩ বার বদলী করে। কিন্তু অবৈধ টাকার নেশায় তিনি উপরস্থ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বারবার তাহিরপুর থানায় ফিরে আসেন। এবং এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেড। তাদেরকে নিয়ে দীর্ঘদিন তাহিরপুরে অবস্থান করে মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য করে এসআই জামাল রাতারাতি হয়ে যায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

    রাজধানী ঢাকা,বিভাগীয় শহর সিলেট ও তার গ্রাম জৈন্তা উপজেলায় তৈরি করেছে একাধিক বিলাস বহুল বাড়ি ও কিনেছেন দামী গাড়ী। খোঁজ নিয়ে জানাযায়,২০১৪সালের ২১জুন এসআই জামালের নেতৃত্বে যাদুকাটা নদীরপাড় কাটায় বাঁধা দেওয়ায় বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামের কৃষক মিসবাহ উদ্দিনের ডান হাতের আংগুল কর্তন,একই সালের ৩০জুন চাঁদা না দেওয়া বাজিতপুরের দুই কয়লা ব্যবসায়ীর নৌকা পাটলাই নদী থেকে আটক করে থানায় এনে ৩০হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া,জুয়ার বোর্ড থেকে ২জুয়ারীকে আটক করে থানায় যাওয়ার আগেই পাতারগাঁও নামকস্থানে উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জাতীয়,বিভাগীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় এসআই জামালকে নিয়ে সংবাদের ঝড় উঠে।

    এলাকাবাসী জানায়,যাত্রাগানের আসর বসানোর জন্য প্রতিরাতে ১০হাজার,আসরে জুয়া ও মদ বিক্রির জন্য ১০হাজার টাকা,বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্নস্থানে মাজারে ওরসে মদ-গাঁজা বিক্রির জন্য প্রতিরাতে সম্মানী ৫হাজার টাকা,যাদুকাটা নদীরপাড় কেটে বালি বিক্রির জন্য প্রতি ইঞ্জিনের নৌকা থেকে ২হাজার টাকা,এলাকায় জুয়ার বোর্ড বসিয়ে প্রতিবোর্ড থেকে ৫হাজার টাকা,পাটলাই নদীতে কয়লা পরিবহণের সময় প্রতিনৌকা থেকে ১থেকে ২হাজার টাকা,ওপেন মদ-গাঁজা বিক্রির জন্য মাসে ১০হাজার টাকা,হাট-বাজারে ওপেন ভারতীয় নাসির উদ্দিন বিড়ি বিক্রির জন্য প্রতিমাসে ২০হাজার টাকা হারে চাঁদা দিতে হয় এসআই জামালকে। তার কথা মতো চাঁদার টাকা না দিলে নৌকা আটক করাসহ নিরপরাধ লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে হয়রানী করা হয়।

    এছাড়া থানায় মামলা রেকর্ড করতে প্রতি মামলায় ৫হাজার টাকা,সেই মামলা তদন্ত করতে গাড়ি ভাড়া ও খাওয়া খরছসহ আরো ৫হাজার টাকা সম্মানী দিতে হয়। না হলে ওসিকে ছয়নয় বুঝিয়ে মামলা আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া যাদুকাটা নদীর তীর সংলগ্ন মানিগাঁও,ঘাগটিয়াসহ আরো কয়েকটি এলাকায় আবাদি জমি ও নদী পাড় কেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কোয়ারী তৈরির জন্য প্রতি কোয়ারী থেকে ৫হাজার টাকা চাঁদা নেওয়াসহ বর্তমানে বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামে ১টি,উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মধুয়ারচর গ্রামে ১টি ও শিমুলতলা গ্রামের ১টি জয়ার বোর্ড চলছে।

    বাদাঘাট বাজার,বালিজুরী বাজার,আনোয়ারপুর বাজার,সোলেমানপুর বাজার,কাউকান্দি বাজার,লাউড়েরগড় বাজার,নতুন বাজার,শ্রীপুর বাজার ও তাহিরপুর সদর বাজারে চলছে ওপেন ভারতীয় নাসিরউদ্দিন বিড়ি। উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খান বলেন,এসআই জামালকে চাঁদা না দেওয়ায় ছিলানীতাহিরপুরের এক ব্যবসায়ীর ১০টন কয়লা আটক করে সেই কয়লা সে বিক্রি করে টাকা নিজের পকেটস্থ করে।

    এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। চাঁরাগাঁও কয়লা আমদানী কারক সমিতির সভাপতি জয়ধর আলী বলেন,এলাকার গরীব মহিলারা রাস্তা ও পাহাড়িছড়া থেকে কুড়িয়ে যে কয়লা সংগ্রহ করে,সেই বাংলা কয়লা বিক্রি করতে হলে এসআই জামালকে প্রতিটনে ২শত টাকা চাঁদা দিতে হয়। না দিলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। লাকমা গ্রামের দিনমজুর শহিদ মিয়া,লালঘাটের কালাম মিয়াসহ আরো অনেকে বলেন,চোরাচালানী আজাদ মিয়ার কথামতো সীমান্তে কয়লা পাচাঁর না করায় এসআই জামাল আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানী করছে।

    বাজিতপুর নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,নদীপথে কয়লা পরিবহন করতে গিয়ে চাঁদাবাজির যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ট হয়ে এসপি ও ডিসির কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাইনা,পত্রিকায় লিখলে কি হবে। মধুয়ারচর গ্রামের জুয়ারী হাবিব মিয়া,দিলু মিয়া,শিমুলতলার সবুজ আলমসহ আরো একাধিক জুয়ারীরা বলেন,আমরা এসআই জামাল ভাইকে চা-পানের টাকা দিয়ে জুয়া খেলে সময় কাটাই,কোন সমস্যা হয়না।

    এব্যাপারে এসআই জামাল বলেন,আমার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি করেও সাংবাদিকরা আমার কিছু করতে পারেনি। কারণ আমার হাত অনেক লম্বা,এসপি ও ডিসি আমার কিছু করতে পারবেনা। আমারও দুইএকজন সাংবাদিক আছে। থানায় আসুন বসে চা-পান খাই,মিলেমিশে কাজ করি।

    সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর-রশিদ বলেন,এব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদুক কৃর্তক তদন্তপূর্বক এসআই জামালের যাবতীয় কর্মকান্ড,অবৈধঅর্থ ও সম্পত্তির হিসেব নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিস্ট প্রশাসনের কাছে জোরদাবী জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার ভুক্তভোগী জনসাধারণ।