তাহিরপুরে ছাত্ররাও ঝুকে পড়েছে জুয়ায়ঃধ্বংসের পথে সমাজ

    0
    257

    আমারসিলেট24ডটকম,১৬জুন,মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়াঃ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে প্রতিদিন চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। সকাল ১০টা থেকে চলে ভোররাত পর্যন্ত। এলাকার ব্যবসায়ী,কৃষক,বেকার যুবকসহ স্কুল-কলেজের শতশত ছাত্ররাও ঝুকে পড়েছে এই ধ্বংসের খেলায়। ইতিমধ্যে জুয়ার আসরে সবকিছু হারিয়ে অনেকেই হয়েছেন নিঃস্ব। বসতবাড়ি,জায়গা-জমিসহ সবকিছু বিক্রি করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। এলাকাবাসী জানায়,উপজেলারবাদাঘাট,সোনাপুর,আমবাড়ি,বারহাল,কামড়াবন্দ,বালিয়াঘাট,দুধেরআউটা,লাকমা,বিন্নাকুলি,গাগটিয়া,লালাঘাট, শিমুলতলা,চন্দ্রপুর,মোল্লাপাড়া ও উত্তর বড়দলসহ সীমান্তের প্রায় ৫০টি ছোট-বড় স্পটে প্রতিদিন হচ্ছে কোটি টাকার জমজমাট জুয়াখেলা। প্রতিটি বোর্ড পরিচালনা করছে একজন পরিচালক। তারা নিজবাড়ির ভিতরে,আঙ্গিনায় ও খোলা মাঠে ওপেন আসর বসায়।

    এজন্য জুয়ারীদের কাছ থেকে প্রতিঘন্টা জুয়ারবোর্ড ভাড়া নেয়া হচ্ছে চারশত টাকা। আর নিরাপদে বোর্ড চালানোর জন্য থানার দালালরা প্রতিবোর্ড থেকে প্রতিরাতে নিচ্ছে ৫হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে,তাহিরপুর থানার এসআই জামাল উদ্দিন উৎকোচের বিনিময়ে এলাকার বেকার যুবকদের নিয়ে জুয়ারবোর্ড চলাচ্ছেন। একারণে মাঝে মধ্যে দু-একজন জুয়ারীকে পুলিশ আটক করলেও থানায় যাওয়ার আগেই ছেড়ে দিতে হয়। যারফলে জুয়ারখেলা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এব্যাপারে জুয়ারবোর্ড পরিচালক বারহাল গ্রামের কামাল মিয়া,সোনাপুর গ্রামের নুরুল মিয়া,আমবাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান-বাড়িতে জুয়ারবোর্ড চালানোর জন্য এসপির নামে এসআই জামাল উদ্দিনকে চাঁদা দিতে হয়। জুয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ্য ফকিরনগর গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া,ইদ্রিস আলী,বারহাল গ্রামের জমির উদ্দিন,শিমুলতলা গ্রামের হাবিবুল্লা,কালাম মিয়া,মিলন মিয়াসহ অনেকেই বলেন-জুয়ায় হারজিত কোন সমস্যা না কিন্তু এসআই জামালের চাঁদাবাজি দিনদিন বেড়ে চলেছে। আগে ছিল ৩হাজার টাকা এখন তাকে দিতে হয় ৫হাজার টাকা।

    চরগাঁও গ্রামের জুয়ারবোর্ড পরিচালক মুরশিদ মেম্বার বলেন-গতবছর থানা থেকে জুয়ারবোর্ড নিয়ে আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এবছর তারা আমাকে দেয়নি। এব্যাপারে তাহিরপুর থানার এসআই জামাল উদ্দিন বলেন-এসব পত্রিকায় লিখলে কি হবে,থানায় আসুন বসে চা খাই,মিলেমিশে কাজ করি। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন-এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জুয়ার মরন নেশা থেকে যুব ও ছাত্র সমাজকে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে সহযোগিতা কামনা করেছেন তাহিরপুর উপজেলাবাসী।