দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোনো সম্পদই বড় নয় বলল প্রধানমন্ত্রী

    1
    339

    আমারসিলেট24ডটকম,১৮জুনঃ দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোনো সম্পদই বড় নয় বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন।  তিনি বলেন জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য সরকার বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অতীতের বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশকে পিছিয়ে নিতেই দক্ষ। তারা ক্ষমতায় এলে সাক্ষরতার হার কমে যায়। আর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এ হার বাড়িয়ে দেয়। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আজ বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৪ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা সচিব মোহাম্মদ সাদিক, কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজাহান মিয়া।
    শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশের মানুষকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী। তারা দক্ষতা নিয়ে বিদেশে গেলে অধিক অর্থ উপার্জন করতে পারবে। এজন্য সবাইকে ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। সমালোচকরা না বুঝেই পরীক্ষার পাসের হার ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৮০০টি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু হয়েছে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের মেধা রয়েছে। তাদের সুযোগ দিলে তারা শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। আর সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।
    মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় পাশের হার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশের হার বেড়ে ৯২ শতাংশ হয়েছে। দেশে এ হার ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ। তারা এত বেশি পারলে আমরা কেন পারবো। আমার তো মনে হয় আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা অনেক বেশি মেধাবী। এত বেশি পাশ করলো কেন এটা তাদের ভালো লাগে না। শিক্ষার মান নাকি পড়ে গেলো। তারা টক শোতে গিয়ে ফাটিয়ে ফেলেন। টকশোতে পড়াশুনার মান নিয়ে সমালোচনাকারীদের এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের সাথে বসিয়ে দেয়ার দরকার। তারা দেখুক আমাদের ছেলে-মেয়েদের মান কেমন? আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক বেশি জ্ঞান রাখে, তারা অনেক বেশি জানে।
    দেশে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাতকে দক্ষ প্রশিক্ষিত করতে পারলে বাংলাদেশ কেন সামনে এগিয়ে যাবে না? আমরা চাই শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠুক এবং দেশের কল্যাণে অবদান রাখুক। তিনি বলেন, শিক্ষাই হচ্ছে একমাত্র হাতিয়ার যেটা আমাদের দেশকে দরিদ্রতামুক্ত করতে পারে।
    শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্লাস এইট এর পর ছেলে মেয়েদের মধ্যে কার কোন দিকে মেধা তা ঠিক করে তারা কে কারিগরি শিক্ষা নিবে, কে সাধারণ শিক্ষা নিবে, কে বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করবে তা ঠিক করা। তখন থেকে ছেলেমেয়েদের সুনির্দিষ্ট পথে সেদিকে নিয়ে যেতে চাই।
    প্রবাসীদের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে সফল হতে ও অবহেলার হাত থেকে বাঁচতে দক্ষতা নিয়ে কেউ বিদেশ গেলে অধিক অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি তারা কর্মক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে কে কোথায় যাবে, কাকে কোন কাজ করতে হবে সেভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার। দক্ষ হলে কর্মক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হয় না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ কাজ করতে গিয়ে অবহেলার শিকার কিংবা অপমাণিত হবে এটা কেউ সহ্য করতে পারলেও আমি সহ্য করতে পারবো না। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। কারো কাছে ভিক্ষা করে চলতে চাই না। নিজেরা আত্ম-নির্ভরশীল হতে চাই।