দেশে বিদ্রোহে উসকানির অভিযোগে মান্নাকে ১০ দিনের রিমান্ড

    0
    214

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৫ফেব্রুয়ারীঃ উর্ধ্বতনে সেনা কর্মকর্তাদের বিদ্রোহে উসকানি দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ১০ দিনের  রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

    আজ (বুধবার) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমানের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার আইনজীবীদের করা জামিন আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত।

    এর আগে বিকেল তিনটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে সিএমএম আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় মান্নাকে। সেনাবিদ্রোহের উসকানি দিয়ে সরকার উৎখাতের অভিযোগ দায়ের হওয়া একটি মামলায় মান্নাকে  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান গুলশান থানার এসআই আব্দুল বারী। আদালত শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

    আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্নাকে গতকাল সোমবার গভীর রাতে বনানীতে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আটক করে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এর দায় নেননি। এ নিয়ে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মান্নার ভাইয়ের স্ত্রী বেগম সুলতানা বাদী হয়ে একটি জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল রাত তিনটার দিকে ডিবি পরিচয় দিয়ে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি মান্নাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যান।

    এছাড়া, নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির করানোর জন্য রিট চেয়ে আবেদন করা হয়।

    বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে  মান্নাকে গ্রেফতারের বিষয়টি বুধবার রাতে নিশ্চিত করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

    পরে সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাবের একটি প্রতিনিধি দল মান্নাকে গুলশান থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে মামলা হয়। এ মামলায় মান্না ছাড়াও অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করা হয়েছে।

    সম্প্রতি মান্নার সাথে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির টেলিফোন আলাপের অডিও গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এরপর থেকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আসে। অল্প সময়ের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ৩০টি জিডি করা হয়। তাকে গণধোলাই দেয়ার হুমকি দেয় ছাত্রলীগ। এছাড়া মান্নাকে গ্রেফতারের দাবি ওঠে সংসদ ও মন্ত্রিসভায়। ফোনালাপের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিলেও তার আগেই তাকে বাসা থেকে তুলে নেয়া হয়।ইরনা