নড়াইলে অধ্যক্ষ লাঞ্চিতের ঘটনায় ১০ দিন পর ৩ জন গ্রেফতার

0
406
নড়াইলে অধ্যক্ষ লাঞ্চিতের ঘটনায় ১০ দিন পর ৩ জন গ্রেফতার
নড়াইলে মহানবী(সাঃ)কে কটুক্তির ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রের সাথে কলেজের অধ্যক্ষকে জুতার মালা দেওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল॥ এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

সুজয় বকসী, নড়াইল প্রতিনিধিঃ ঘটনার ১০ দিন পর নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের মির্জাপুর কলেজের অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত, শিক্ষকদের মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া এবং পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার  ঘটনায় সদর থানায় ২শ অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে  মামলা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে একটি তদন্ত কমিটি ও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো সদরের মির্জাপুর বাজারের মোবাইল ম্যাকানিক শাওন খান (২৮, স্থানীয় নূরাণী মাদ্রাসার শিক্ষক মনিরুল ইসলাম (২৭)এবং অটো চালক রিমন আলী (২২)।

বুধবার (২৭ জুন) রাতে পুলিশ বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করে। পরে রাতে তাদের বাড়ি থেকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় ফেসবুকে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় গত ১৮জুন কলেজে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন শিক্ষকদের ৩টি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং অভিযুক্ত ছাত্র ও কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা গলায় পরিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

নড়াইলে অধ্যক্ষ লাঞ্চিতের ঘটনায় ১০ দিন পর ৩ জন গ্রেফতার
ফেসবুকে মহানবী (দঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ লোকজন শিক্ষকদের মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং অভিযুক্ত ছাত্র ও কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা গলায় পরিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

অধ্যক্ষের কন্যা শ্যামা বিশ্বাস জানান, এ ঘটনার পর বাবা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন না। এছাড়া তার ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, অধ্যক্ষের বাড়ি সদরের সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সোমবার (২৭জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি শওকত কবির বলেন, ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ  ঘটনার সাথে জড়িতরা কেউ ছাড়া পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।