নবীগঞ্জে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

0
261

নূরুজ্জামান ফারুকী,বিশেষ প্রতিনিধিঃ জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চার সপ্তাহের মধ্যে আইনগত পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন।
জানা যায়, বছরের অধিকাংশ সময় নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগণার পানিউমদা, গজনাইপুর ও দেবপাড়া ইউনিয়নে পাহাড় ও টিলা কাটা চলছে। দিনে কিংবা রাতের আধাঁরে অতি সু-কৌশলে পাহাড় কেটে উজার করে নিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটার ফলে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে আশপাশের ঘরবাড়ি। এসব বসতভিটা ভারি বর্ষণ হলে ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এনিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি-২০২৩) হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি হয় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে। আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিনারপুর এলাকার পাহাড় কাটায় জড়িদদের বিরুদ্ধে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রিপন বাড়ৈ ও নাছরিন আক্তার। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম। এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া চা বাগানের ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণে টিলা কাটা ও হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে পাহাড় কাটার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। এতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আইনজীবি মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, এইচআরপিবির আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট গতকাল মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে পাহাড়/টিলা কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরণ আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতেও বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় কাটা বন্ধে দায়ের করা রিট আদালতে চলমান থাকা অবস্থায়ও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে। পরিবেশ আইনের ৬ (খ) ধারা অনুসারে পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। যদি কেউ পাহাড় কাটে তাহলে পরিবেশ আইনের ধারা ১৫ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি আরও বলেন, আইন থাকলেও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। যার কারণে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন।
এ নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন- “নবীগঞ্জের দিনারপুরে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা চলে আসছিল, এনিয়ে গণমাধ্যমে অগণিত সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসন যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়টি দেশের পথিতযশা আইনজীবি মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টের নজরে এনেছেন। তাই হবিগঞ্জের প্রকৃতি-পরিবেশ ও সচেতন মানুষের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রত্যাশা করছি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে কর্তৃপক্ষ পাহাড় কাটা বন্ধ করবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, “পরিবেশ আইন অনুয়ায়ী পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে নির্দেশনা দিয়েছি। নতুন পাহাড় কাটা হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। হাইকোর্টের রুল জারির বিষয়ে বলেন আমরা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।”