নবীগঞ্জে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড এলাকায় ফাটল! আতঙ্কিত এলাকাবাসী:পুনরায় তদন্তের আশ্বাস

0
128

নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ উপজেলায় বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু) এমপি।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে মন্ত্রীর নির্দেশে বিবিয়ানা এলাকায় অতিরিক্ত কাঁপুনিতে বাড়িঘরে ফাটলের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধান ও করণীয় নির্ধারণে পুনরায় ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড এলাকা পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু)।
পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু) বলেন- ‘বিবিয়ানা এলাকায় বাড়িঘরে কেন ফাটল দেখা দিয়েছে তা সুস্পষ্ঠভাবে তদন্ত করার জন্য পুনরায় ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে তাদের তালিকা করা হবে। এ সময় মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।’
এ সময় হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, জেলা প্রশাসক মোছাঃ জিলুফা সুলতানা, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম দাস অনুপসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শেভরণের কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
পরে একই দিন বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোছাঃ মোর্শেদা ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) কে আহবায়ক ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উন্নয়ন-৩ অধিশাখার যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদমর্যাদার প্রতিনিধি, বাপেক্স ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (ভূতত্ত্ব) পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল কামাল, শেভরন বাংলাদেশ লিমিটেডের একজন প্রতিনিধি।

বিজ্ঞপ্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ভূকম্পন সংঘটিত হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের মতামত ও সুপারিশ প্রদান, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করাসহ নতুন গঠিত তদন্ত কমিটি আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য,নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের করিমপুরে অবস্থিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি শেভরনের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এটি। গত (১ফেব্রুয়ারী) বৃহস্পতিবার থেকে (৩ ফেব্রুয়ারী) শনিবার পর্যন্ত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩-৪ বার বিকট শব্দ ও অতিরিক্ত কাঁপুনি সংগঠিত হয়। এতে মাটি কেঁপে ফাটল ধরেছে ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের ২০ গ্রামের দুই শতাধিক ঘর বাড়িতে। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও ব্যবস্থা নেয়নি। যেকোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
এ ঘটনার পর থেকে শিশু থেকে বৃদ্ধ লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার রাতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড ঘেরাও করে।
এ সময় বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার পুলিশ স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়াকে অবগত করেন।
পরে সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানালে সরে যান স্থানীয়রা। এরপর মধ্যরাতে পুনরায় অতিরিক্ত কাঁপুনি দিলে আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মাঝে, পরে (৪ ফেব্রুয়ারী) রোববার আন্দোলনে নামে তারা।

স্থানীয়রা বিবিয়ানার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ, সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দেয়ার ঘটনায় শেভরণের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করেন তারা। অন্যতায় কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেয়া হয়। ৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার আন্দোলনের মুখে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রোডাকশন বিভাগ সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি২০২৪ রোজ বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
এতে ‘বিবিয়ানায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা প্রাকৃতিক ভূমিকম্প, ভূমিকম্পর বিষয়ে মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা দাবি করেন, নতুন কূপ খননকালে ভুল প্রক্রিয়ায় খনন করায় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িঘর ফেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিপূরণ এড়াতে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দেয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রত্যাখান করেন স্থানীয়রা।
এরই প্রেক্ষিতে আবারো তদন্তের আশ্বাস দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু) এমপি।