নবীগঞ্জে শিক্ষকদের সকাল-সন্ধা রমরমা কোচিং বাণিজ্য!

    0
    221

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৭ফেব্রুয়ারীহবিঞ্জের নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অর্থলোভী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে তারা সরকারের নীতিমালা লঙ্ঘন করে তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেপরোয়া প্রাইভেট কোচিং নিয়ে ব্যস্ত। যদিও নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট কোচিং বেআইনী। তারপরও নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের কিছু অসাধু শিক্ষক ক্লাশের পূর্বে ও পরে, কলেজের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন স্থানে কোচিং সেন্টার খোলে তারা নির্বিচারে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে শিক্ষকের খাচায় বন্ধি হয়ে আছেন কমলমতি ছাত্র ছাত্রিরা। আতিক ম্যানশন নামের একটি বাসায়

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে: নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ফ্রিলেন্স বিষয়ের শিক্ষক সফর আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষক কলেজের ভেতরেই প্রাইভেট কোচিং করাচ্ছেন এবং ইংরেজি শিক্ষক শাহীন মিয়া উপজেলার সামনে একটি বাসায় ও ফোয়াদ মিয়া উপজেলা পরিষদের নিকটস্থ আতিক ম্যানশন নামের একটি বাসায়, হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক রফিক মিয়া শহরের হিরা মিয়া গার্লস হাই স্কুলের পাশে ইউসুপ শপিং সেন্টারে, গণিত বিষয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান হাবিব ওসমানি রোডের আনোয়ার বিপনীতে, আরেক শিক্ষক শহরের ধান সিড়ি নামক স্থানেসহ কলেজের অনেক শিক্ষক পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যঙ্গের ছাতার মত প্রাইভেট কোচিং সেন্টার খোলে সকাল ৬টা থেকে সন্ধা পযর্ন্ত তাদেও অবৈধ কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব দেখার যেন কেউ নেই?

    কথা আছে যে অর্থ সম্পদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্র। যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন করার কথা তাদের চরিত্র এখন বিচিত্র। শিক্ষক নির্যমানুবর্তিতার শিক্ষা দেন যে জীবন নিয়মের সুতায় বোনা। কিন্তু, তাদের মধ্যে কিছু নামধারী অর্থলোভী শিক্ষক সরকারী নিয়ম-নীতিমালা লঙ্ঘন করছেন। এসব শিক্ষকদের মনোযোগ এখন আর শিক্ষাদানের দিকে নয়, স্বচ্ছল অভিভাবকের সন্তানদের প্রাইভেট কোচিং পড়ানোর দিকে তাদের দৃষ্টি।

    শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভাল করে না পড়িয়ে দায়সারা ক্লাস নিয়ে প্রতারণা করছেন। ঠকাচ্ছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের। প্রাইভেট কোচিং এর কুপ্রভাব পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা গ্রহণের বদলে সহ্য করতে হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নৈতিকতা ভুলে গিয়ে এসব শিক্ষক বৈষম্য-নৈরাজ্য করছেন অস্বচ্ছল, সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে। যে সব শিক্ষার্থী প্রাইভেট কোচিং করে তাদের প্রতি এসব শিক্ষকদের এক ধরণের আচরণ এবং আদুরে আদুরে ব্যবহার। অন্যদিকে, যে সব শিক্ষার্থী কলেজের কোন শিক্ষকের নিকট প্রাইভেট কোচিং করে না ওই সব শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকদের অমনোযোগিতা, তাদের এড়িয়ে চলা এবং অস্বাভাবিক আচরণ করা হয়।

    শিক্ষকরা প্রাইভেট কোচিং করান বলেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কোচিং করান। এসব শিক্ষকের ক্লাসে মনোযোগ নেই, তাই ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে যায় না, আর গেলেও মনোযোগহীন। কিন্তু, ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাইভেট কোচিং মিস করে না। কোচিং শিক্ষকও প্রাইভেট কোচিং করান অত্যন্ত যতœ সহকারে।

    সচেতন অভিভাবকরা এ প্রতিবেদক কে জানান:এটা প্রশাসনের গাফিলতি। প্রাইভেট কোচিং এর সাথে জড়িত শিক্ষকদের আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করার দৃষ্টান্ত নেই। সাধারণ মানুষের দাবি কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের খোঁজে বের করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। তা না হলে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়বে সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।