নবীগঞ্জে ১৯২০ সালের বিদ্যালয়ে আজ পর্যন্ত শহীদ মিনার হয়নি!

0
187

নূরুজ্জামান ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি: বিদ্যালয় আছে ঠিকই, নেই শহীদ মিনার। তাই হয় না একুশে ফেব্রুয়ারিসহ জাতীয় কোনো আয়োজন। যদিও সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক।

১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মান্দারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো শহীদ মিনার তৈরি করা হয়নি।

এতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না ভাষার সঠিক তাৎপর্য। জানাতে পারছে না কিভাবে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাত হয়। কিছুদিন পরেই বিজয় দিবস। তারপর আসবে শহীদ দিবস। এই দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। এদিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

তবে প্রতিবারের মতো এবারও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পথে মান্দারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ওরিন জানায়, স্কুলে শহীদ মিনার নেই, তাই ফুল দিতে পারি না। শহীদ মিনার না থাকার কারণে ২১ ফেব্রুয়ারি ভালোভাবে পালন করতে পারি না। এছাড়া ওইদিন কোনো ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আসাদ, জানায়, বঙ্গবন্ধু শত বছর উপলক্ষে হয়নি কোন অনুষ্ঠান। যদি শহীদ মিনার তৈরি করা থাকতো তাহলে আমরা ওখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাইতাম।

মান্দার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্য সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে তারা ২১ ফেব্রুয়ারিসহ নানা দিবস পালন করে। আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় দিনটি পালন করতে পারি না। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি শহীদ মিনার তৈরি করার আবেদন জানা ।

এ বিষয়ে মান্দার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শাহিন সরকার দুলাল দৈনিক আমার হবিগঞ্জ কে বলেন, ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়ে ছিলেন, যাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি, যাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি সেই শহীদের জন্য আমরা গর্ব করি। দুঃখের বিষয় আমাদের কলেজে শহীদ মিনার নেই। আমাদের স্কুলে একটি শহীদ মিনার তৈরির দাবি জানাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতিময়ী দে বলেন, ১৯২০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও গড়ে ওঠেনি শহীদ মিনার। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদসহ জন-প্রতিনিধিরা একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেন নি। আশা করি অচিরেই নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনার স্হাপন করা হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন সাথে। তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জকে বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আসলেই শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।#