নাশকতার নির্দেশ খালেদা জিয়ার ! ফোনালাপ প্রকাশ

    0
    298

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩ফেব্রুয়ারী‘নাশকতার নির্দেশ’ দিয়ে টেলিফোনে দলের নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কথোপকথন নিয়ে আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওই ফোনালাপগুলো শোনানো হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক মন্ত্রী।
    এক মন্ত্রী জানান, ‘ওই ফোনালাপ শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যি সত্যিই তো উনি (খালেদা জিয়া) নাশকতার নির্দেশ দিয়েছেন’।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মন্ত্রী বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচি শেষ হওয়ার পর অনির্ধারিত আলোচনার সময় সভাকক্ষে বসেই ফোনালাপের অডিওগুলো শোনেন শেখ হাসিনা।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিনিয়র মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীরাও খালেদা জিয়ার নির্দেশে ওই সময় যারা নাশকতায় অংশ নিয়েছিল, তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আর কিছু বলেননি।’
    ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে সারাদেশ থেকে জনসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছিল বিএনপি। অনুষ্ঠানস্থল ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে সকালে আগতদের পুলিশ লাঠিপেটা করে বের করে দিলে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ বাঁধে এবং তা ছড়িয়ে পড়ে অন্য জেলাগুলোতেও। ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণে একজন মারা যায়, পোড়ানো হয় কয়েকটি গাড়ি। সিলেটে বাসে আগুন দেয়া হলে পুড়ে মারা যান এক যাত্রী।
    বাংলা লিকস খালেদার যে পাঁচটি অডিও টেপ প্রকাশ করেছে, তার চারটিই ওই সমাবেশ শুরুর আগে কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার কথোপকথন।
    প্রথম টেপটিতে অন্য প্রান্ত থেকে খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়_ ‘ম্যাডাম, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রোগ্রামটা কি অন থাকবে?’
    তখন খালেদাকে বলতে শোনা যায়_ ‘এখন পর্যন্ত অন থাকবে। কিন্তু ওখানে কেউ থাকবে না। ছেলেপেলেরা সব রাস্তায় থাকবে। ভেতরে কাউকে আমি দেখতে চাই না। ছেলেরা সব রাস্তায় যাবে।’
    ঢাকা মহানগর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালামকে ‘লোক নামানোর’ নির্দেশও দিতে শোনা যায় খালেদাকে।
    ‘খোকা আর সালামকে বলে দেন, বেশি করে লোক নামাতে। ওরা যদি লোক নামাতে না পারে, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিক। আমি রাস্তায় লোক দেখতে চাই।’
    এরপর খালেদাকে বলতে শোনা যায়_ ‘আপনি কি ওদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’
    অন্য প্রান্ত থেকে যখন ‘জি্ব’ বলে আরো কিছু বলা শুরু হয়, তখন তাকে থামিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
    ‘না না, ওই যে, অন্যদের, আপনি যাদের সঙ্গে কথা বলেন। ওরা এখনো নামেনি কেন?…আরো নামাতে বলেন।
    ‘আমাদের লোকজনদের বল, সব প্রেসক্লাব ও ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন) ছেড়ে রাস্তায় চলে যাও। কাউকে আমি ওখানে দেখতে চাই না। ওখানে শুধু মুক্তিযোদ্ধা যেগুলো আসছে, ওগুলো থাকবে। আর সব রাস্তায়।’
    দ্বিতীয় কথোপকথনে তৎকালীন মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালামকে খালেদা বলেন, ‘তাড়াতাড়ি করে যত পার পাঠাও লোক। দেরি কর না, দেরি করলে অসুবিধা হয়ে যাবে। বুঝছ।’
    তৃতীয় কথোপকথনে বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে সক্রিয় করতে একজনকে নির্দেশ দেন খালেদা।
    ‘জামায়াতকে বলেন, ওদের লোকজন নামাই দিতে বলেন। শুধু ঢাকায় না, সব জায়গায়।… আর মৃদুলকে বলেন যে ও ওর জায়গাটা ভালো করে করতে।’
    চতুর্থ কথোপকথনটি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার।
    খালেদা বলেন, ‘আপনার কমিশনারদের বলুন, যার যার এলাকায় নিয়ে যাক। রাস্তাগুলো বস্নক করে দিক আর কী।…এলাকাভিত্তিক।’
    পঞ্চমটিতে চট্টগ্রামের গোলাম আকবর খন্দকারের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি নিয়ে কথা বলেন, যাতে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের নাম এসেছে।
    ডা. শাহাদাত দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
    খালেদাকে বলতে শোনা যায়, ‘শাহাদাতকে বলেছি, একটা কাজের দায়িত্ব দিয়েছি। খসরু যেন কোনো কাজে বাধা না দেয়, তাকে এই মেসেজ দেন।’
    অন্য প্রান্ত থেকে কিছু বলতে চাইলে খালেদা বেশ জোরের সঙ্গে বলেন, ‘সে বাধা দিচ্ছে, আপনি তাকে বলে দেন। বলে দেন যে কোনো কাজে বাধা দেবে না। বাধা দিলে আমি ইমিডিয়েটলি রিমুভ করব তাকে।’
    এক পর্যায়ে অন্য প্রান্তের ব্যক্তির ওপর বিরক্ত হয়ে খালেদা বলেন, ‘আপনি ডিপ্লোমেট (গোলাম আকবর খন্দকার খালেদার শাসনামলে ওমানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন) করেছিলেন, বাট ইউ ডোন্ট নো হাউ টু টক।
    ‘আপনি ইমিডিয়েটলি খসরুকে বলেন, কোনো বাধা দেবে না, বুঝছেন কিনা।’
    খালেদা ছাড়াও বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান, সাদেক হোসেন খোকা, মারুফ কামাল খান ও খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের দুজন কর্মচারীকেও টেলিফোনের অন্যপ্রান্তে নাশকতা চালানোর নির্দেশ দেয়া সংবলিত কথোপকথন পাওয়া যাচ্ছে ইউটিউবটির ওই অ্যাকাউন্টে।
    এর আগেও অ্যাকাউন্টটিতে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, শমসের মবিন চৌধুরী, তারেক রহমান, এম কে আনোয়ার, জয়নাল আবদিন ফারুকের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আলাপের অডিও টেপ আপলোড করা হয়।সূত্রঃ যাযাদি।