নির্দিষ্ট স্থানে হামলার নির্দেশের অপেক্ষা করতেনঃইব্রাহিম

    0
    197

    আমারসিলেট24ডটকম,নভেম্বরঃ হরকাতুল জিহাদের (হুজি) অপারশেন ওউংয়ের প্রধান দাবিদার খায়রুল বাশার ওরফে ইব্রাহিম (৩০) বিদেশ থেকে হামলার কৌশল ও অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে হামলার জন্য হাই কমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতেন তিনি।

    আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে এমনটা দাবি করেন ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। ইব্রাহিমকে বুধবার ভোর পাঁচটায় রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    ডিবি কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম জানিয়েছেন গত বছরের রমজানে তিনি পাকিস্তান জঙ্গি প্রশিক্ষন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তার প্রশিক্ষণের বিষয় ‘অ্যাটাক অন সফট অ্যান্ড হার্ড টার্গেট’। এর মধ্যে হামলার কৌশল ও অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষনের শিক্ষা ছিল।

    প্রশিক্ষণের উদ্দেশে পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরে নামার পর ইব্রাহিমসহ কয়েকজনকে একটি বাসে ৭ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের পিস্তল, রিভলবারসহ ছোট অস্ত্রগুলো রক্ষণাবেক্ষণের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

    মনিরুল বলেন, এছাড়া অস্ত্র বানাতে একে-৪৭ রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্রের যন্ত্রাংশের তথ্য ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করেন ইব্রাহিম, আটকের পর সেগুলো তার কম্পিউটারে পাওয়া গেছে।

    বিদেশে প্রশিক্ষণের  আগে ইব্রাহিম চট্রগ্রাম বিভাগের কোনো একটি জেলার একটি মাদরাসায় তিন মাসের শারীরিক প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ বর্তমানে কয়েকটি ধারায় বিভক্ত। এদের মধ্যে আবু সাঈদের অনুসারী এই ইব্রাহিম। তিনি নিজেকে অপারেশন উইংয়ের প্রধান হিসেবে দাবি করেছেন। নিজেদের চাহিদা মতো বোমা ও সরঞ্জাম এবং কোথায় কখন হামলা করবে, সে নির্দেশনা না আসায় তার উইংয়ের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।

    গত ২৫ অক্টোবর হুজি নেতা রফিক আহমেদসহ চারজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যমতে গত ১ নভেম্বর আরো তিনজনকে আটক করা হয়। মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার ভিত্তিতেই আজ বুধবার ভোরে ইব্রাহিমকে আটক করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ডিএমপির দক্ষিণ বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার জাহাঙ্গির হোসেন মাতাববর, জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান, দক্ষিণ বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।