নির্যাতিত পুরুষরা কেন মুখ খুলে না ?

    0
    144

    আমারসিলেট24ডটকম,১৭নভেম্বরঃ শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে না এমন পুরুষ (বিবাহিত) পাওয়া মুশকিল। এর অর্থ এই নয় যে নারীরাও নির্যাতিত হচ্ছেনা। নারীরা নির্যাতিত হলে অন্য নারীদের সাথে এমন কি অনেক পুরুষের সাথে ও শেয়ার করতে পারে। নারীকে অবলা মনে করে অনেক সুযোগ সন্ধানীরা প্রকাশ্যে গোপনে কথিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

    অপরদিকে নির্যাতিত নারী সমাজের জন্য অনেক সংগঠন এগিয়ে আসে নিজ দায়িত্তে নারী কল্যানে। মূলত নারী নির্যাতনের পাশাপাশি বাংলাদেশে পুরুষ নির্যাতন একটি প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীদের মতো প্রতিদিন ঘটছে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা।

    নারীদের পাশাপাশি পুরুষরা ব্যাপক ভাবে প্রতিনিয়ত ও প্রতি মূহুর্তে নির্যাতিত হচ্ছে।  পুরুষরা শারীরিক, কেউ মানসিক, কেউ দৈহিক-আর্থিক কেউ সামাজিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে পাশাপাশি হচ্ছে শাসন  শোষনের স্বীকার, ঘরে বাইরে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে অহরহ। প্রতিদিন সংবাদ পত্রের পাতা খুলার পর দেখা যায় পুরুষ নির্যাতনের কাহিনী।

    কিন্তু এনিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই, সরকার থেকে শুরু করে  এনজিও, মন্ত্রী আমলারা পর্যন্ত এনিয়ে মাথা ঘামায় না সকলেই নারীদের জন্য নারী উন্নয়ননীতি বাস্থবায়ন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

    সবাই নারীদের নির্যাতন নিয়ে জোর গলায় কথা বলছেন, নারীদের বিভিন্ন দাবীদাওয়া আদায়ে রাজপথে মানববন্ধন সভা সমাবেশ করছেন। কিন্তু যিনি বাইরে বেরিয়ে এসে নারীদের উন্নয়নের কথা নির্যাতনের কথা জোর গলায় বলছেন সেই বক্তা ও কিছুক্ষণ আগে তার স্ত্রীর হাতে মারধর কিংবা মানসিকসহ কোন না কোন ভাবে নির্যাতিত হয়ে এসেছেন। নারী নির্যাতনের যে কথা বলছেন আর নিজের নির্যাতনের কথাটি ভেবে নিরঁবে কেঁদে যাচ্ছেন।

    কিন্তু একবারও ভেবে দেখা হয় না এই সমাজেই পুরুষও নির্যাতিত হতে পারে মানে সোজা কথায় হচ্ছে। ফলে পুরুষ নির্যতন দিনের পর দিন তা আরও গুরুতর হচ্ছে। প্রতিদিন চুপচাপ মেনেও নিচ্ছেন অনেক সবল পুরুষেরা।

    নানা কারনে আড়ালে আবডালে থেকে যাচ্ছে পুরুষ নির্যতনের ঘৃণ্য ওই ঘটনা গুলো। কেন তা গোপনে একজন পুরুষকে তিলে তিলে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে আমরা এখানে কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    সামাজিক অবস্থানের ভয়

    একজন পুরুষ নারী দ্বারা অভিরাম শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন দিনের পর দিন। এই ঘটনা কোন পুরুষ নিজে মুখে বলতে খুবই লজ্জাবোধ করেন। পুরুষ ভাবেন নারীর কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতিত হওয়া আবার তা প্রকাশ পাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।

    সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্থ হবে পাছে লোকে কিছু বলবে। শুধুমাত্র এই কারনে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা থেকে যায়।

    পারিবারিক সহযোগিতার অভাব

    পরিবারের অপর সদস্যদের সহযোগিতার অভাবে পুরুষরা চুপচাপ অনেক কিছুই মেনে নেন। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেক কিছুই করে যান সংসারে। স্ত্রীর অবাধ্যতা ও দাম্ভিকতা সহ্য করে চলতে হয় দিনের পর দিন। এমন কিছু স্পর্শ কাতর বিষয় থাকে যা আমাদের সামাজিকতার কারনে পরিবারের কারও কাছে বলার সুযোগ থাকে না।

    যদিও কোন কোন পরিবারে নানী,দাদী,ভাবীর মত কারও কাছে অনেক কথাই বলা যায়, তবে তা কখনো কখনো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায় যে কারনে পুরুষের মনের ব্যাথা মনেই থেকে যায়।

    আইনী ঝামেলা ও বাচ্চা লালন পালনের ভয়

    অনেক পুরুষই নিজের স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতন সহ্য করে নেন ঝামেলায় জড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে। তা ছাড়া যদি সংসারে সন্তানাদি থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই।পুরুষরা ভাবে যদি ছেলে মেয়েরা আঁচ করতে পারে বা বুঝে ফেলে একদিন তারাও এমন আচরনে অভ্যাস্থ হয়ে উঠবে, বা সমাজে অন্য লোকেরা তাদের দেখে টিপ্পনী দিবে ।

    এক্ষেত্রে কেউ যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কছেদ করতে চান, তখন বাচ্চা লালন পালনের ভাবনা টা মাথায় চেপে বসে, আইনি ঝামেলা তো রয়েছেই। যা নানাভাবে নির্যাতন শিকারের সুযোগ করে দেয় পুরুষদেরকে।

    কেননা একজন নারী যখন তার স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন এবং সম্পর্কছেদ করতে চান, তখন নিয়ম অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু একজন পুরুষ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চাইলে ও তা সহজে হয় না।

    বরং পুরুষের উল্টো মামলায় জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়,যা আমাদের চারপাশের অবস্থায় আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।