পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য আগামী বাজেটে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ

    0
    437

    মালয়শিয়া ও চীনের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য আগামী বাজেটেpadma bridge-1 ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

    অর্থ মন্ত্রণালযের সম্মেলন কক্ষে এই মত বিনিময় সভায় আগামী বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।     

    শনিবার বিভিন্ন দৈনিক ও মিডিয়ার প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এই অর্থের মধ্যে ৬০৮ মিলিয়ন ডলার থাকবে বিদেশি মুদ্রায়।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, “নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এর রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।”

    তিনি জানান, চলতি অর্থবছররের সংশোধিত বাজেটেও পদ্মা সেতুর জন্য এক হাজার ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    পদ্মা প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ব ব্যাংকসহ কয়েকটি দাতা সংস্থার সঙ্গে ঋণচুক্তি করলেও দীর্ঘ টানাপড়েনের পর চলতি বছর জানুয়ারির শেষে তাদের ‘না’ বলে দেয় সরকার।

    এরপরই সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানায়।

    এরই মধ্যে মালয়শিয়া ও চীনসহ কয়েকটি দেশের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। ফেব্রয়ারি মাসে পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরে মালয়শিয়া ও চীন।

    মালয়শিয়ার ২৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাবে বলা হয়, টোল আদায়ের মাধ্যমে ২৬ বছরে এই অর্থ তুলে নেবে তারা। লাভের ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫২০ কোটি ডলার মালয়শিয়া নেবে। বাকি ৩০ শতাংশ বাবদ বাংলাদেশ পাবে ২১৯ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে স্পেয়ার এনার্জি ক্রিয়েশনস বেইজিং লিমিটেডের নেতৃত্বে কয়েকটি চীনা কোম্পানির একটি কনসোর্টিয়াম পদ্মা সেতু নির্মাণে ১৯৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দেয়।

    তাদের প্রস্তাবে রাজি থাকলে প্রকল্প ব্যয়ের ২৭৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ১৯৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের যোগান দেবে। বাকি অর্থ দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে, যা মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ।

    এ জন্য চীনা কনসোর্টিয়াম কোনো সুদ নেবে না। তারা টোলও তুলবে না। প্রতি মাসে ৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন বা বছরে মোটামুটি ১০ কোটি ডলার হিসাবে ২০ বছরে চীনা বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।